চট্টগ্রামে ঘাট ও গুদাম শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত

মজুরি বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবিতে ঘাট ও গুদাম শ্রমিকদের ধর্মঘটের জেরে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ১৬ ঘাটে পণ্য খালাস দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ কর্মবিরতির ডাক দেয় ঘাট ও গুদাম শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি। কর্মবিরতির জেরে জাহাজ থেকে গম, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য খালাসে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য ওঠা-নামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে। 

 
ঘাট ও গুদাম শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব মো. রাজা মিয়া ইত্তেফাককে জানান, মালিকপক্ষের সাথে লিখিত চুক্তি অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ঘাট ও গুদাম শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি প্রদান করার কথা ছিল। তা না পেয়ে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দেবেন না।
 
জানা গেছে, গত ২৬ জুন লাইটারেজ জাহাজ মালিক সমিতির মধ্যস্থতায় ঘাট ও গুদাম শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতা বৈঠকে ১ জুলাই থেকে শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। তবে ১ জুলাই যথারীতি কাজে যোগ দিয়ে বর্ধিত মজুরি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শ্রমিকরা। ২ জুলাই সকাল থেকে সংগ্রাম কমিটির আহ্বানে কর্মবিরতিতে যোগ দেন প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক।
 

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম ইত্তেফাককে জানান, ঘাট ও গুদাম শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে কর্ণফুলীর বিভিন্ন ঘাটে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। অবিলম্বে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোগ্যপণ্যের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।