তালেবান শাসন অবসানের ১৩ বছর

৯০ শতাংশ আফগান নারী নির্যাতনের শিকার

 
 
কট্টর তালেবান শাসন অবসানের ১৩ বছর পরও ভালো নেই আফগানিস্তানের নারীরা। অব্যাহতভাবে তারা  নানাবিধ শোষণ নির্যাতনের শিকার। খবর বিবিসির।
 
গ্লোবাল রাইটসের গবেষণায় দেখা গেছে—আফগান মহিলাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকারসহ জোরপূর্বক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থাত্ ৯০ শতাংশ নারীই সেখানে নির্যাতনের শিকার। আর এ সব নির্যাতন ও হয়রানির বেশির ভাগই ঘটছে হয় তাদের ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে, নয় তো বিশ্বস্ত ও পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা পেলেও বেশির ভাগ নারীরই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হয় তাদের এ সব মুখ বুজে সহ্য করতে হয়, নতুবা নির্যাতনের পুরনো জায়গায় ফিরে যেতে হয়। এমনকি এই অবস্থা থেকে নিস্কৃতি পেতে কেউ কেউ আত্মহননের মতো পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
 
এদেরই একজনের নাম মরিয়ম। যদিও এটি তার আসল নাম নয়। গত দুই মাস ধরে তিনি কাবুলের একটি নারী আশ্রয় কেন্দ্রে লুকিয়ে রয়েছেন। আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অন্য আরো ২০ জন নারীর মতো তিনিও এখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
 
এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে অত্যাচার-নির্যাতনের এক করুণচিত্র। এর মধ্যে কয়েকজন স্বামীর হাতে নির্যাতিত, কেউবা ধর্ষণের শিকার অথবা জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় অনেকেই বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। তবে এদের প্রত্যেকেরই ভয়—তাদের পরিবারের লোকজন তাদেরকে হত্যা করবে।
 
মরিয়ম সর্বশেষ যখন নির্যাতনের শিকার হন, তখন তিনি সাত মাসের অন্তঃস্বত্তা।  সে সময় তার স্বামী তাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। তিনি এখনো মনে করতে পারেন না কী ভয়ঙ্কর ছিল সে আক্রমণ। যত দূর মনে পড়ে—তিনি তখন মেঝেতে পড়েছিলেন আর তার স্বামী তার গলায় পা তুলে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছিলেন।
 
মরিয়ম বলেন, ‘এ সময় শরীর থেকে রক্তপাত হতে থাকে এবং সমস্ত মেঝে আমার রক্তে ভেসে যায়।’
 
অথচ ৫ বছর আগে ২৫ বছর বয়সী মরিয়মের যখন বিয়ে হয়, তখন তিনি ভাবতেও পারেননি তার একদা তার ঠাঁই হবে এ ধরনের আশ্রয় কেন্দ্রে। এখন তার ঘর-সংসার, ছেলে-মেয়ে ভালো জীবনের স্বপ্ন সবই মৃত প্রায়।
 
থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা মতে—যুদ্ধপ্রবণ দেশ আফগানিস্তানে নারী হয়ে জন্ম নেয়াটাই যেন একটা পাপ। ক্ষমতা আর শক্তির নিয়ন্ত্রণে সেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও লিঙ্গ ইত্যাদির ব্যবহার হয়ে থাকে।
 
নারী অধিকারকর্মী ও আফগানিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন সীমা সামারের মতে—তালেবান আমলে নারীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া ও বাইরের কাজ নিষিদ্ধ করা হয়। বোরকা ছাড়া বাইরে বেরোনোও নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্ত তালেবান শাসন অবসানের ১৩ বছর পরও সে অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। আফগানিস্তানের উন্নয়নে কোটি কোটি ডলার খরচ করা হলেও আফগান নারীরা এখনো সন্ত্রাসের মধ্যেই বসবাস করছেন।