নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হলেও বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে সরকারের কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন—যদিও বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে তবে এখানকার জীবনমান উন্নত করতে হবে। সুশাসন রক্ষা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে। যেন নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সম্মানজনক অবস্থায় যেতে পারে।
নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিশ্বস্ততা অর্জনে এগিয়ে যাবে তবে এর মাধ্যমে খুব বেশি আশাবাদী হওয়া ঠিক হবে না। কারণ, আয়ের দিক থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পৌঁছালেও বাংলাদেশের অবস্থান এখনও নিচের দিকেই। বর্তমানে নিম্ন-মধ্য আয়ের ১ হাজার ৪৫ মার্কিন ডলার থেকে ১৮০০ মার্কিন ডলারের রেঞ্জে রয়েছি। আর নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের রেঞ্জ হলো ১ হাজার ৪৬ ডলার থেকে ৪ হাজার ১২৫ মার্কিন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘যদিও আমরা নিম্ন-মধ্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি, তবে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে আটকে আছে। প্রবৃদ্ধি আটকে থাকার প্রভাব হিসেবে অসমতা বাড়ছে, মানসম্পন্ন বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নীরব সংকট দেখা দিচ্ছে এবং মানব দক্ষতায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।’
অর্থনীতিবিদরা আরো বলছেন—নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সম্মানজনক হবে। সরকার যখন সাহায্যের জন্য আবেদন করবে তখন বাংলাদেশকে নিম্ন ঝুঁকির দেশ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে দক্ষিণ সুদানের ইতিহাস থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে যেন নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ থেকে নিম্ন আয়ের দেশে ফিরে না যায়।