ঘটনাটা যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিলো। গত কয়েকটা সিরিজ ধরেই একদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিয়োজিত ‘নিরাপত্তা বাহিনী’র বাড়াবাড়ি, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ধসে পড়ার নানা ঘটনা চোখে পড়ছিলো। এ নিয়ে খেলোয়াড়রাও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কেউ কারো কথায় কান দিচ্ছিলো না।
রবিবার অবশেষে সেই বিস্ফোরণটা হলো।
বিসিবির নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হলেন দেশের নামকরা এক ক্রীড়া সাংবাদিক। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুশীলন কাভার করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হন আলোকিত বাংলাদেশ দৈনিকের ক্রীড়া সাংবাদিক, সাবেক খেলোয়াড় সিকান্দার আলী।
মিরপুর মাঠের অন্যতম নিয়মিত এই রিপোর্টার ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে দলের নেট অনুশীলন দেখে ফিরছিলেন। তখন তাকে নিরাপত্তাকর্মীরা কার্ড দেখাতে বলেন। শনিবার বিকেলের আগ পর্যন্ত চলতি সিরিজের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করেনি বিসিবি। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে অফিসের প্রেস কার্ড প্রদর্শন করেন।
এই কার্ডে সন্তুষ্ট না হয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সিকান্দার আলীকে লাঞ্ছনা করেন। রিপোর্টার নিজে জানিয়েছেন, তাকে ধাক্কা দিয়ে রেলিংয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হয় এবং তিনি হাতে ব্যথা পেয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ক্রীড়া সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠনেরই নেতাদের উপস্থিতিতে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী বৈঠক করেন নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে।
সেখানে বিসিবি স্বীকার করে নেয়, তাদের নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা আচরণ ঠিক রাখতে পারছেন না এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিধান করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রতি সিরিজেই বিলম্বে পরিচয় পত্র প্রদানের ব্যাপারে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেণ তারা। বিশেষত ম্যাচের পর যেভাবে বহিরাগত ও বিসিবি কর্মকর্তাদের আত্মীয় স্বজনরা খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে পর্যন্ত ঢুকে পড়ছেন, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন বিসিবির প্রধাণ নির্বাহী। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য তারা সতর্ক থাকবেন বলে জানালেন।
পুরো ঘটনার পর দুঃখ প্রকাশ করে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘এটা খুব দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা খেয়াল রাখবো, ভবিষ্যতে এমন কিছু যাতে না হয়। আমরা চাই, সংবাদ মাধ্যম নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ক্রিকেট কাভার করুক। এতে আমাদের তরফে কিছু দুর্বলতা থাকলে, সেটা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা।
মূল ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনিও নিন্দা জানান সাংবাদিকদের ওপর এই আক্রমণের, ‘কাউকে যদি শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় সেটা অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। এটা কারোর জন্যই কাম্য নয়। এর ভেতরে কোনো কিছু হলে সেটা বোঝাপড়ার মাধ্যমে ঠিক হোক, সিরিজের আগে আমি সেটাই চাই।’