আগের দিন বাংলাদেশ কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে বলেছেন, তিনি বা তার দল ইতিহাসে বিশ্বাস করেন না। তারা ইতিহাস গড়তে চান। শনিবার সেই দলের উপযুক্ত নেতা হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজাও বলছেন, অতীত রেকর্ড কোনো সাহায্য করে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খারাপ রেকর্ডও যেমন বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেবে না, তেমনই নিজেদের সাম্প্রতিক ভালো রেকর্ডও ম্যাচ জিতিয়ে দেবে না।
দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামার আগে অধিনায়ক বললেন তারা মাঠেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে চান। দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে নিয়ে সাংবাদিকের জিজ্ঞাসায় মুর্তজা।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে কী বাংলাদেশ বেশী সমীহ করছে?
দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তবে আমি মনে করি আমাদের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে চিন্তা করাই ভালো। এদের সাথে খেলা সব সময় চ্যালেঞ্জিং কারণ ওদের প্রতিটি বিভাগ শক্তিশালী। কিন্তু আমরা আমাদের খেলা নিয়ে চিন্তা করছি। যেভাবে শেষ কয়েকটা সিরিজ খেলে এসেছি সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ভালো খেলার চেষ্টা করবো।
সম্প্রতি আপনাদের যে দারুন ফর্ম, সেটা কী একটু অনুপ্রাণিত করবে?
আসলে অতীতে কি হয়েছে সেটা কোনোভাবে সাহায্য করে না। শেষ আমরা যেই সিরিজ জিতেছি সেটা আমাদের এই সিরিজে কোনোভাবে কাজে লাগবে না। নির্দিষ্ট দিনে আমাদের ভালো শুরু করতে হবে এবং শেষটা ভালো করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ধারাবাহিকতা থাকায় আত্মবিশ্বাস থাকবে। আবার টি-টোয়েন্টিতে আমাদের রেকর্ড ভালো না। টি-টোয়েন্টি আমরা খুবই কম খেলি। আমাদের একজন মাত্র অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে যে সারাবিশ্বে খেলে সাকিব। আর ওদের ৮-১০ জন ক্রিকেটার আছে যারা প্রতিনিয়ত সারাবিশ্বে খেলছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক দিক থেকেই এগোনো। তারপরও আপনারা নিজেদের কোন জায়গাটায় শক্তিশালী মনে করছেন?
ওরা একটা পূর্ণাঙ্গ দল। ফিল্ডিংয়ে ১৫-২০ রান আটকাতে পারে। বোলিং অসাধারণ। ব্যাটিংয়ে ওদের কিছু ব্যাটসম্যান আছে দুই-তিনজন আলাদা ধরনের খেলোয়াড় আছে। এক হাতে তারা ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আমরা যদি দল হিসেবে ভালো খেলতে পারি, এবং আমরা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আমার বিশ্বাস ভালো করতে পারবো। আর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে সাহস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হচ্ছে সাহস নিয়ে খেলা।
আমাদের পেস বোলিং এখন খুব ভালো করছে। আবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে মনে করা হয়, স্পিনে দুর্বল। আপনারা কোনটায় জোর দেবেন?
শেষ দশ-পনের বছরে আমরা সব সময় স্পিনের উপর নির্ভর করে আসছি। শেষ কয়েকটা সিরিজে পেস বোলিংয়ে কিছুটা আমরা পজিটিভ চিন্তা করেছি, সুফলটা এখন পাচ্ছি। শক্তি আমাদের স্পিনেই। কিন্তু এখন যারা পেসার আসছে তারা স্পিনের সঙ্গে সমানতালে ভালো করছে। কোন বিষয়ে জোর দেবো, সেটা পরে বলা যাবে। এটুকু বলতে পারি, আমরা আমাদের সেরা শক্তি নিয়ে মাঠে নামবো।
বোলিং কম্বিনেশনটা কী হতে পারে, এ নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা আছে...
কিভাবে সাজাতে চাই সেটা এখন বলতে পারছি না। তবে আমি এখনো মনে করি চাইলে বোলাররাও ম্যাচ জেতাতে পারে। এবং দেখেন ভারত কিন্তু ৩০৭ অহরহ চেজ করছে। যেকোন দল কিন্তু তিন শ বা তার বেশি চেজ করছে। সেই জায়গা থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো একটা ভিত গড়ে দিয়েছে এবং বোলারা অসাধারণ বোলিং করেছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো পারফর্ম করছে। কিন্তু আমি এখনও মনে করি বোলাররা টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ জেতাতে পারে। ধরেন কোনো দল যদি ২০০ করে ফেলে সেটা আমাদের জন্যে খুব কঠিন হবে। কিন্তু আমরা যদি ১৫০-১৬০ এর ভেতর রাখতে পারি তাহলে ব্যাটসম্যানদের সুযোগটা থাকবে। আমি মনে করি বোলাররাই ম্যাচ জেতাতে পারবে।
২০১১ সালের পর আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আর খেলিনি। এটা কী সমস্যা হতে পারে?
সেটা তো দুই ক্ষেত্রেই সমান হতে পারে। এখন আমরা কি অবস্থায় আছি সেটা ওরা দেখেনি। কিন্তু আমরা তো সব সময় দেখি, টিভিতে। আর ওদের তো সময় নেই আমাদেরকে দেখার। এটাও সত্যি কথা। রেকর্ডে আমরা খুব পচা অবস্থায় আছি। একটাই শুধু ওয়ানডে জিতেছি, এছাড়া অন্য কোনো ফরম্যাটে কোনোটিতেই জিততে পারিনি। তবে ওটা অনেক আগের কথা। এখন আমরা দল হিসেবে ভালো খেলছি। তবে আমরা যে অনেক কিছু করে ফেলবো সেরকম কিছু বলছি না। দল ভালো করছে। শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা জিতেছি। তাদের রেকর্ডও কিন্তু ভালো। সে জায়গা থেকে আমরা কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো। একটাই অপশন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলা। আর কোনো কিছু নেই। আমরা যদি ভয় পাই তাহলে ঘরে বসে থাকাই ভালো।
সামগ্রিকভাবে যদি দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে নিজেদের তুলনা করেন।
আমি এখনো বলবো আমরা উন্নতি করছি। আমাদের বহু চ্যালেঞ্জ সামনে পড়ে আছে। আমরা বাইরে কেমন খেলি, টেস্ট কেমন খেলি। এখন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা নিয়ে যদি চাপ নেই মনে করা হয়, সেটা ঠিক হবে না। আমরা একটা উপায়ে এখান থেকে বের হতে পারবো তা হল আমাদেরকে মাঠে খেলতেই হবে। টেনশন না করে ভালো খেলাটাই খেলা ভালো। আমরা সেটাই চেস্টা করছি। ওদের টিমে কয়েকজন ব্যাটসম্যান আছে একহাতে গেম চেঞ্জ করে দিতে পারে। কিন্তু তারাও দিন শেষে একজন মানুষ।