সংকটের সমাধান নিয়ে সংশয়

গ্রিসের ঋণ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক দাতাদের প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাখ লাখ ভোটার এতে ভোট দিয়েছেন। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সরকার ‘না’ ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছে। তবে বিরোধীরা আহবান জানাচ্ছে ‘হ্যা’ ভোট দিতে। তবে ভোট যে পক্ষেই যাক না কেন সেটা বর্তমান সংকট সমাধানে কতটুকু দূর করতে পারবে তা নিয়ে শঙ্কা কাটছেনা। বুথ জরিপে দেখা গেছে, না ভোটের পক্ষেই বেশিরভাগের সমর্থন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

 
গ্রিসের এই গণভোট কেবল দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যতই নির্ধারণ করবে না, এর প্রভাব পড়তে পারে সারা বিশ্বে। এজন্য প্রায় সব দেশই গণভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের প্রচারণাকারী উভয় পক্ষই বড় ধরনের সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার প্রচারণা শেষ করে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস ‘না’ ভোটের পক্ষে। তবে তার বিরোধীদের আশঙ্কা ঋণদাতাদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে দেশটিকে ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যেতে হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং ইউরোপীয়  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) সঙ্গে গ্রিসের বর্তমান অর্থনৈতিক উদ্ধার কর্মসূচির মেয়াদ গত মঙ্গলবার শেষ হয়।
 
এই ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে ইইউতে একমুদ্রা ব্যবস্থা আদৌ যৌক্তিক কিনা তার নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। গ্রিসের নাগরিকরা কি কৃচ্ছ্রসাধন মেনে ইউরোতেই থাকতে চান, না কি নিজেদের মুদ্রা ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চান সেটিও জানা যাবে এই ভোটে। এই বিষয়টি খুবই কঠিন কাজ। কারণ দুই দিকেই আছে হতাশা আর অনিশ্চয়তা সমারোহ। গত পাঁচ বছর ধরে কৃচ্ছ্রসাধন করে গ্রিসের কপালে খুব বেশি সৌভাগ্য জোটেনি। দেশের অভ্যন্তরীন উত্পাদন ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বেড়েছে বেকারত্ব। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট দিনে দিনে বাড়ছেই।
 
গণভোটকে ভাল চোখে দেখছে না ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশগুলো। তারা অনেকেই এই গণভোটকে সিপ্রাসের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে সিপ্রাসকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের চেয়ারম্যান জ্যাঁ ক্লদ ইয়ুঙ্কা। ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে গ্রিসের সাধারণ মানুষ নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারে। আর এই বিষয়টি ইইউ নেতারা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। শনিবার গ্রিসের অর্থমন্ত্রী ঋণদাতাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ এনেছেন।
 

গণভোটের ফল নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ‘না’ ভোটের পক্ষে জোরদার প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস। এমনকি ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে তিনি সরে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু তারপর কী হবে তা নিয়ে কেউ পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেননি। ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মূলধনের উপরে নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিপ্রাস সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় ব্যাংক, শেয়ার বাজারসহ নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান।