এপ্রিলে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি হওয়ার পর ওবামা ও রুহানি উভয়ই তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ওবামা একে এক ঐতিহাসিক শুরু বলে অভিহিত করেন। রুহানি বলেন যে, ইরান সমঝোতার শর্তাবলি মেনে চলবে। কিন্তু তারপরও উভয় নেতার কাছ থেকে তাদের আগের অবস্থানের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ওবামা সম্প্রতি বলেন যে, ইরানের পরমাণু ক্ষমতা পুরোপুরি খর্ব করা না হওয়া পর্যন্ত কোন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়। অন্যদিকে ইরান সর্বাত্মক চুক্তির জন্য নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না হোক উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যাহারকে শর্ত করেছে। কয়েকদিন আগে রুহানি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ইরান পরমাণু কর্মসূচির অধিকার ত্যাগ করবে না। আমেরিকা ও পশ্চিমের দেশগুলো বরাবর বলে আসছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচির লক্ষ্য বোমা তৈরি করা। এর জবাবে ইরান বারবার বলেছে যে, সামরিক নয় বরং চিকিত্সা ও বিদ্যুত্ উত্পাদনের মতো শান্তিপূর্ণ বেসামরিক কাজে ব্যবহার করাই তাদের পরমাণু কর্মসূচির লক্ষ্য। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের এ বক্তব্য অগ্রাহ্য করে দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছে। পরিস্থিতি এতটা জটিল দিকে মোড় নিয়েছিল যে, মনে হচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্য হয়তো আরেকটা যুদ্ধ এড়ান গেলো না। যুদ্ধবিরোধী ইমেজ নিয়ে ক্ষমতায় আসা ওবামা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে সবসময়ই কূটনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন। তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি গত ৩৪ বছরের মধ্যে (২০১৩ সালে) ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্কে অবনতি ঘটে। জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও জাপান ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত ৩৪টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। ২০০২ সালের আগস্টে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কথা প্রথম প্রকাশের ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট, ইইউ ও জাতিসংঘ একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছে। নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ন্যুব্জ। ২০১৩ সালে হাসান রুহানি ক্ষমতায় আসার পর ইরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আনুষ্ঠানিক ও গোপনে এই আলোচনা অনেক চড়াই-উতরাই পেরোয়। ‘রোলার কোস্টার নিগোসিয়েশন’ বলেও অনেকে একে অভিহিত করেছন। যদিও দু’পক্ষের মধ্যে এখনও বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে, সৌদি আরব ও ইসরাইলের মতো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্ররা পরমাণু সমঝোতার বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও আলোচনার টেবিলে হাজির উভয় পক্ষই চাইছেন এ থেকে যৌক্তিক সমাধান বেরিয়ে আসুক। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞাগুলো এখন কিছু শিথিল করা গেলেও অন্য সংস্থা বা দেশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সমঝোতায় আসতে সময় লাগবে। শনিবার বিকেলে ভিয়েনের আলোচনাস্থলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও তার ইরানি প্রতিপক্ষ জারিফ এক অনির্ধারিত বৈঠকে বসেন। এসব কিছু থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় আসতে ইচ্ছুক।