ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভিয়েনায় শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, এ সপ্তাহেই এই সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌছানো সম্ভব হবে। সোমবার ভিয়েনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কেরি এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো কিভাবে প্রত্যাহার করা হবে তা নিয়ে উভয়পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছয় জাতির সঙ্গে তেহরানের চূড়ান্ত চুক্তির পথে অবশিষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য ভিয়েনায় ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সকালে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী টানা দেড় ঘণ্টা, এরপর বিকেলে তারা আরেক দফা বৈঠকে বসেন।
মঙ্গলবার বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে একটি সার্বিক ও টেকসই পরমাণু চুক্তি সই করার লক্ষ্যে গত প্রায় ১০ দিন ধরে ইরান ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়েনায় অবস্থান করছেন।
এছাড়া রবিবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহির সঙ্গে ভিয়েনায় বৈঠক করেন মার্কিন জ্বালানীমন্ত্রী আর্নেস্ট মোনিজও। সেইসঙ্গে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি আলোচনা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপ-প্রধান হেল্গা স্মিডের সঙ্গে। তারা চূড়ান্ত চুক্তির খসড়ার সর্বশেষ মতপার্থক্যের জায়গাগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
মূলত শেষ মুহূর্তে ভিয়েনায় ইরানের ওপর জাতিসংঘ, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কিভাবে প্রত্যাহার করা হবে তা নিয়েই আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো। ইরান বলছে, চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাগুলো একযোগে তুলে নিতে হবে। কিন্তু ছয় জাতিগোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টি মেনে নেয়ার জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছে।