পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বিদায়ী জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ প্রতিবেদনে জুন মাসের মূল্যস্ফিতী দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশে। মে মাসে এ হার ছিলো ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পবিত্র রমজানর কারণে এ মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য একটু বেড়েছে।
এ সময় আরো জানানো হয়—সদ্য বিদায়ী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফিতী ছিল ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারের লক্ষ্য ছিল বছরের গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা। মন্ত্রী বলেন, সরকার তা করতে পেরেছে। এটা সরকারের সক্ষমতারও প্রমাণ বহন করে।
তথ্যে দেখা যায়—জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। এর আগের মাসে তা ছিল ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। অপর দিকে, জুনে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ হিসাব পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে করা।
মূল্যস্ফীতির হার পর্যালোচনা করে বিবিএসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে—জুন মাসে ডাল, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, মসলা, দুধ ও দুধ জাতীয় এবং তামাক জাতীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি কারণে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি আরেকটু বেড়েছে। সেইসাথে বেড়েছে পরিধেয় বস্ত্র, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী, চিকিত্সা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ খাতে ব্যয় বেড়েছে।
এ দিকে, গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার জুন মাসে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। খাদ্য খাতে এ হার ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং খাদ্য বর্হিভূত খাতে ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।
অপর দিকে, শহরের ক্ষেত্রে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। খাদ্য খাতে এ হার ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং খাদ্য বর্হিভূত খাতে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। একনেক পরবর্তী সভায় আরো জানানো হয় এ বছরের মে ও জুন মাসে জাতীয় মজুরি হার যথাক্রমে ৯ দশমিক ৪৪ ও ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।