স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি বিএনপি খালেদা জিয়া প্রতিনিয়ত ইফতারের আগে গীবত করে চলেছেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল আয়োজিত ‘বিএনপি জামায়াতের অশুভ আঁঁতাত গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে অন্তরায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ধর্মে আছে ইফতার সামনে রেখে গীবত করতে হয় না। অথচ গীবত না করে খালেদা জিয়া ইফতারই করছেন না।
বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অহেতুক মিথ্যাচার করে মাঠ গরম করবেন না। গণতান্ত্রিক পথে ফিরে এসে ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী নির্বাচনেও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। ‘৫০ হাজার বিএনপি নেতা-কর্মীকে আটক রাখা হয়েছে’ মর্মে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এখন জেলের ধারণ ক্ষমতা ৩৩ হাজার। অথচ খালেদা জিয়া বলছেন তাদের ৫০ হাজর নেতাকর্মী আটক, এটা কীভাবে সম্ভব? এতে তার নেতৃত্বের দেউলিয়াপনাই প্রকাশ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৪ দল ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করছে। এটা আদর্শিক জোট। আদর্শিক ঐক্য দিয়েই ১৪ দল টিকে থাকবে। এ জন্য আমরা জোট নিয়ে শঙ্কিত নই। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজকে পত্রিকায় দেখলাম যুক্তরাষ্ট্র ধর্ষণে ফার্স্ট হয়েছে। এর আগে চার্চে আটজন কালোকে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য তো কেউ ওবামার পদত্যাগ দাবি করছে না। অথচ আমাদের দেশে এমন ঘটনা ঘটলে অনেকেই শতবার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতেন।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস কে শিকদার, বাসদের আহবায়ক রেজাউর রশিদ খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত্ হোসেন, ন্যাপ নেতা এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল প্রমুখ।
মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ’
মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চিকিত্সকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি যে কোন মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের তত্পর হবার জন্য তাগিদ দেন। গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিগত ছয় মাসের হাসপাতাল পরিদর্শন সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতাকালে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। দেশে প্রথমবারের মত হাসপাতাল পরিদর্শন প্রতিবেদন নিয়ে এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের যে সব কর্মকর্তা পরিদর্শনে গাফিলতি করবেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে পরিদর্শনের জন্য উপযুক্ত দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হবে। সভায় হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামীতে সকল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলার সিভিল সার্জনসহ ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব সৈয়দ মন্জুুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদারসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চিকিত্সকদের তত্পর হতে হবে’
দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবায় চিকিত্সকদের আরো তত্পর থাকতে হবে। পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে কাজ করে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দোয়া মাহফিল ও ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এইসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের সদস্যভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভূইয়া ডাবলু , বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া প্রমুখ।