নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট প্রভৃতি অবকাঠামো নির্মাণের জন্যে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে বিশ কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। ২৮৪ জন সংসদ সদস্য বছরে চার কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে এ পরিমাণ অর্থ পাবেন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ১৬ জন সংসদ সদস্য আপাতত এ বরাদ্দ পাবেন না। তবে অচিরেই সিটি করপোরেশন এলাকার সংসদ সদস্যদের জন্যে আলাদা একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত নতুন অর্থবছরের (২০১৫-১৬) প্রথম একনেক সভায় ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ নামের এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এটি বাস্তবায়নের জন্যে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭৬ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর আগের নেয়া প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে সংসদ সদস্যরা এলাকার উন্নয়নে পেতেন ১৫ কোটি টাকা। এবার পাবেন বিশ কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ সংসদ সদস্যগণ নিজেরা সরাসরি ব্যয় করতে পারবেন না। তারা তাদের পছন্দমতো প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেসব বাস্তবায়ন করবে। সভায় জানানো হয়, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৪৬৬ কি.মি. উপজেলা সড়ক, ১৪৩০ কি.মি. ইউনিয়ন সড়ক এবং ৬১৭৩ কি.মি. গ্রাম সড়কের উন্নয়ন হবে। সেই সাথে ৪৫৯৭ কি.মি. পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজটিও সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পসহ ১০ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকার মোট ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬টি নতুন এবং ২টি সংশোধিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৯৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ও মানব পাচার রোধে এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একনেক সভায় এ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প নতুন এবং অপরটি সংশোধিত। অনুমোদিত প্রকল্প দু’টির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। ‘বর্ডার ম্যানেজম্যান্ট ইক্যুইপমেন্ট ফর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় বিজিবি’র জন্য জিএসপি মেশিন উইথ কলিগ পজিশন, থার্মাল ইমেজিং বাইনোকুলার, ফগার মেশিন, নাইট ভিশন গোগল্্স, স্যাটেলাইট ফোনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেনা হবে। এছাড়া ‘সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৬০টি বিওপি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সীমান্ত এলাকায় ৬০টি বর্ডার আউট পোস্ট নির্মিত হবে।
পুলিশ বাহিনীর ১৯টি পুরোনো জরাজীর্ণ অস্ত্রাগারের স্থলে পর্যাপ্ত সুবিধাসহ আধুনিক অস্ত্রাগার নির্মাণ করার জন্য একনেক সভায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ৬টি নতুন জাহাজ ক্রয় করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি তেলবাহী জাহাজ এবং বাকি তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৪৩ কোটি টাকা।
এছাড়া একনেক সভায় হাইটেক পার্কের জন্য মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনের মধ্যবর্তী কালিয়াকৈরে একটি বি ক্লাস স্টেশন নির্মাণ, জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ত, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সিস্টেম উন্নয়ন এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।