ওসিসহ ৯ পুলিশ ও ব্যাংক ম্যানেজারের জামিন মঞ্জুর

আদালতের কর্মচারীকে মারপিট ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ ৯ পুলিশ ও ব্যাংক ব্যবস্থাপকের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই আদালতের বিচারক মো. মহসিনুল হক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

 
অপরদিকে গত ৫ জুলাই গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ ১০ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এএসএম তাসকিনুল হককে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ চৌকিতে বদলি করা হয়েছে।
 
আসামি পক্ষের আইনজীবী শামসুল আলম প্রধান জানান, আদালত আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত ১০ জনের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিউর রহমান, সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক আয়েশ উদ্দিন, গাইবান্ধা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাকিব হোসেন ও কনস্টেবল রফিক, ওই ব্যাংক শাখায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী উপ-পরিদর্শক (সশস্ত্র) আইয়ুব হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দাম, সাইমুম, শাহিনুর, আব্দুল্ল­া ও বাবলু।
 
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটার দিকে মামলার আসামিরা গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানান। এ সময় বাদী পক্ষে আইনজীবী আনিছুর রহমান ও আসামিদের পক্ষে শামসুল আলম প্রধান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
 
এদিকে রাষ্ট্রপতির পক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-০১-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব উত্পল চৌধুরী স্বাক্ষরিত গত ৫ জুলাই তারিখের পত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রবিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এএসএম তাসকিনুল হককে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ চৌকিতে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ চৌকির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. নাহিদুজ্জামানকে শরীয়তপুর জেলার চিকন্দি চৌকিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ হিসেবে বদলি করা হয়।
 
আদালতের কর্মচারী অফিস সহকারী কমল চৌধুরীর দায়ের করা মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জুলাই গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের কর্মচারী কমল চৌধুরী দুটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখায় যান। তিনি ব্যাংকে গিয়ে দেখেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (সশস্ত্র) আইয়ুব হোসেন নিজেই ক্যাশ কাউন্টারের ভেতর চেকের সিরিয়াল ওলটপালট করছেন। এ সময় ওই আদালতের রেকর্ডকিপার মোজাম্মেল হক, ক্যাশিয়ার জুয়েল কবীরসহ অন্যান্য গ্রাহক তার কাজের প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে আইয়ুব হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধমক দেন।
 

তখন কমল চৌধুরী  উভয় পক্ষকে শান্ত হতে বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে গাইবান্ধা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাকিব হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের লোকজন ব্যাংকে গিয়ে শাখা ব্যবস্থাপকের কক্ষে বসা কমল চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে।