দুই দলের শক্তিমত্তার বিশাল ফারাক অনেকটা টের পাওয়া গেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজেই। কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজের আগেও খুব বেশি আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না। ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দারুণ হলেও, প্রতিপক্ষ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নামটাই সুই হয়ে বিঁধছে আশার বেলুনে। র্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে থাকা প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের অর্জন কেবল একটি জয়। তাই অনুপ্রেরণা খুঁজতে গেলে মাশরাফি-তামিমদের তাকাতে হবে ২০০৭ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের দিকে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলার সুযোগ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০০৭ সালে। মোহাম্মদ আশরাফুলের ৮৩ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের সৌজন্যে ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৫১ রান করে বাংলাদেশ।
আব্দুর রাজ্জাকের বোলিং তোপে শুরুতেই পথ হারায় রান তাড়ায় নামা দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে সাকিব আল হাসান এবং সৈয়দ রাসেলও উইকেট শিকারে যোগ দিলে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানের স্মরণীয় এক জয় পায় হাবিবুল বাশারের দল। ম্যাচ সেরার পুরস্কার যায় আশরাফুলের দখলে।
সেই প্রথম, সেই শেষ। তিন ফরম্যাট মিলে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় ঐ একটিই। ঐ ম্যাচের আগে-পরে সব মিলে তাদের বিরুদ্ধে ১৫টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজে একটি ম্যাচ পন্ড হয় বৈরী আবহাওয়ার কারণে। বাকি ১৩ ম্যাচেই হার!
আর সেই হারগুলোর ব্যবধানটাও চোখে পড়ার মতো। উইকেটের হিসেবে সবচেয়ে ছোট হারটাও সাত উইকেটের! আর রানের হিসেবে সেটা ৬১। দুটি করে হার আছে দশ এবং নয় উইকেটের। একশ’র বেশি রানের ব্যবধানে হারতে হয়েছে তিনবার!
দেশের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ হারে ৩-০ ব্যবধানে।
দু’দলের সর্বশেষ সাক্ষাতের ক্ষত তো এখনো দগদগে। ঢাকায় বিশ্বকাপের ২০১১ আসরের গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ৭৮ রানে। ফলে বরণ করতে হয় ২০৬ রানের লজ্জাজনক এক হার।
যদিও সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছিলেন, এই সব অতীত পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবতে নারাজ তারা। এই সিরিজকে নতুন শুরু বলেই ভাবতে চাইলেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়টি।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একই কথা বললেন দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা তামিম ইকবালও। টি-টোয়েন্টি সিরিজে হতাশ করা তামিম প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা কিংবা অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে সতীর্থদের মনোযোগী হতে বললেন নিজেদের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেললে অবশ্যই জেতা সম্ভব জানিয়ে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তান কিংবা ভারত কোনো দলের বিপক্ষে আমরা জোর গলায় বলিনি সিরিজ জিতে যাব। বলেছি, আমরা যদি আমাদের কাজটা ঠিকভাবে করি তাহলে জেতা সম্ভব। একই ব্যাপার হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও। ওরাও কিন্তু বলতে পারবে না আমরা সিরিজ জিতে যাব। ওদেরও ভালো খেলতে হবে। বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে শেষ দুই সিরিজে আমরা যেভাবে সব ঠিকভাবে করে আসছি সেটা যদি করতে পারি তাহলে অবশ্যই ম্যাচ জেতা সম্ভব, সিরিজ জিতব কি-না সেটা তিনটা ম্যাচের ব্যাপার। সেটা অনেক পরের ব্যাপার।’
তবে সেটা যে খুব সহজ হবে না সেটাও স্বীকার করে নিলেন ২০০৭ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ৩৮ রানের একটা ইনিংস খেলা তামিম, ‘কোনো সন্দেহ নেই তারা খুব পেশাদার একটা দল। এই কারণেই তারা র্যাঙ্কিংয়ে ১-২তে আছে। ওদের বোলিং আক্রমণও ভালো। ব্যাটসম্যানও ভালো। ভারত-পাকিস্তানকে যেভাবে আমরা হারিয়েছি এদেরকেও এভাবেই হারাতে হবে। আলাদা করে চিন্তা করার কিছু নেই।’