জাপার দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

ইফতার মাহফিলে জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই গ্রুপের মধ্যে নগরীর সুরমা মার্কেটের সামন থেকে সার্কিট হাউসের সম্মুখ পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে  অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিলেট সার্কিট হাউসেও ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়েছে। পরে পুলিশ ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক করা হয়েছে দলের ১৫ নেতা-কর্মীকে।
 
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিনে পৃথক দু’টি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে জাপার বিবদমান দু’টি গ্রুপ। ধোপাদিঘীরপাড়ে হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনালে ছিল কেন্দ্রীয় সাংগঠিনক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি আবদুল্লাহ সিদ্দিকীর গ্রুপের ইফতার।
 
অন্যদিকে, নগরীর শিবগঞ্জে হোটেল শাকিলাতে সিলেট-২ আসনের জাপার সংসদ সদস্য (এমপি) ইয়াহিয়া চৌধুরী ও সিলেট-৫ আসনের এমপি সেলিম উদ্দিন গ্রুপের ইফতার মাহফিল ছিল।
 
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী গ্রুপের ইফতারে যোগ দেন। সেখানে আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী গ্রুপ নিজেদের এরশাদের জাতীয় পার্টি দাবি করেন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মুঠোফোনে হুমকি ধমকি চলে। এ কারণে হোটেল মেট্রোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কিন্তু ইফতারের পর পরই কেন্দ্রীয় নেতা বাবুল সার্কিট হাউসে গেলে সেখানে তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে উভয় গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। এসময় এমপি এহিয়া চৌধুরীকে আক্রমণ করে আব্দুল্লাহ সিদ্দিকীর বলয়ের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় সুরমা মার্কেট থেকে সার্কিট হাউজ পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কতোয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র (এডিসি) রহমত উল্যাহ।
 
তিনি জানান, এ ঘটনায় দুই গ্রুপের ১৫ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সার্কিট হাউস এলাকায় পুলিশী নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।