মুম্বাই হামলার মূল অভিযুক্ত জাকিউর রহমান লাখভিকে পাকিস্তানে জেল থেকে মুক্তি দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে গত মাসে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হয়েছিল ভারত। কিন্তু চীনের আপত্তিতে ভারতের সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উফায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ নিয়ে অসন্তোষ জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর সন্ত্রাস দমনে সার্বিকভাবে ভারতের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও লাখভি প্রশ্নে নিজেদের অনমনীয় মনোভাবই তুলে ধরেছে বেইজিং। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া জুনিয়াং শুক্রবার বলেন, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কমিটির বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে চীন কাজ করে। সেটা করা হয় নিখুঁত তথ্য এবং নৈর্ব্যক্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে।’
কূটনৈতিক সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য—জুুনিয়াং এই ইঙ্গিতই দিয়েছেন ভারত যে তথ্য প্রমাণ দিয়েছিল তা ‘নিখুঁত’ ছিল না।
ভারত অবশ্য প্রথম থেকেই চীনের আনা এই ‘দুর্বল তথ্য দেয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এসেছে। চীন অনড় অবস্থান নেয়ায় ভারত হতাশ নয়।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বলা হয়েছে—ব্রিকসে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করলেই চীন নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে ঘুরে যাবে তারা এমন করেনি। বৃহত্তর মঞ্চে লাকভি নিয়ে চীনের ওপর চাপ তৈরি করাটাই আপাতত ভারতের লক্ষ্য।
তবে লাখভি প্রশ্নে অনড় থাকলেও সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতার প্রশ্নে ভারতকে একই বন্ধনীতে রেখেছে বেইজিং। জুনিয়াং বলেন, ‘ভারত ও চীন দুটি দেশই সন্ত্রাসবাদের শিকার। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে বেইজিং।’
অন্য দিকে, ব্রিকসের বক্তৃতায় মোদি বলেন, ‘আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা। এ ব্যাপারে কোনো দেশ, গোষ্ঠী, আর্থিক মদতদাতাদের প্রতি পক্ষপাত রাখা অনুচিত।’