পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশের উপকূলে সুন্দরবনের সমান আরেকটি ভূমি জেগে উঠছে। এটিকে ধরে রাখতে চার কোটি গাছ লাগানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষের মধ্যে এখন পরিবেশ বিষয়ে বেশ সচেতনতা এসেছে। এজন্য সবাই গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যে কারণে বাংলাদেশের বনায়নের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি খাতের গুরুত্বও কম নয়। জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৫ এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
প্রসংগত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার বৃক্ষ রোপণ অভিযান এবং বৃক্ষমেলা-২০১৫ এবং বিশ্ব পরিবেশ মেলার উদ্বোধন করবেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, পরিবেশ বিষয়ে সারাবিশ্বে একটি ভীতিকর অবস্থার তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, সাথে সাথে সমুদ্রের তাপমাত্রাও বাড়ছে। পাশাপাশি পরিবেশ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতাও এসেছে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি দেশের মোট ২৫ শতাংশ বন থাকার কথা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা আছে ১৩ শতাংশ। একসময় এটি আরো কম ছিলো। কিন্তু নানা প্রচারণার কারণে গাছ লাগানোর হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখন গ্রামের মানুষ বাজার থেকে গাছের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শুধু বনায়ন নয়, পরিবেশের ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা এসেছে। ঢাকার বাতাসে সীসার পরিমাণ আগের থেকে কমেছে। আগে রাজধানীতে চলাচলকারী গাড়িগুলোর অধিকাংশই কালো ধোঁয়া নির্গমন করতো। এখন এ হার অনেক কমে এসেছে। গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে সরকার যে নীতিমালা করেছে তাতে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি আমদানি নিরুত্সাহিত করা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো দূষণের জন্য বেশি দায়ী হলেও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো। যে কারণে শিল্পোন্নত দেশগুলো আমাদের মতো দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলেছে। তবে অধিকাংশ দেশের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ দিতে পারছে না। তবে এ বছরের শেষে না হলেও আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অর্থ সহায়তার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রেখে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে সবকিছু ঠিকঠাকমতো চলে না। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে দুর্ঘটনা ঘটে না। কিন্তু আমাদের এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলে বেসরকারি সংস্থাগুলো এ নিয়ে নানা কথাবার্তা বলে। এসব দেখিয়ে তারা বাইরে থেকে পয়সা নেয়। পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতার কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য এগুলো রক্ষা করতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইসুল আলম মন্ডল এবং প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী বক্তব্য রাখেন।
পরিবেশ সচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ঋতুতে পরিবর্তন এসে গেছে। আগে ছয়টি ঋতু থাকলেও এখন চারটি ঋতুর বেশি হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে সরকার চার কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে দুই লাখ হেক্টর জমি জেগে উঠেছে। সেখানে ছাড়াও পাহাড়, উপকূল এবং সমতলে এসব গাছ লাগানো হবে। তিনি জানান, আজ রবিবার কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান করবেন। সামাজিক বনায়নে অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পাওয়া একজনের হাতেও প্রধানমন্ত্রী চেক তুলে দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৫ পাওয়া দুজনের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। এবছর পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে পদক পাচ্ছেন আব্দুল মুকিত মজুমদার (বাবু) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক পাচ্ছেন অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোরসেদ।