স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আসন্ন ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতালে রোগী সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে চিকিত্সকদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘ঈদের ছুটিতে রোগী সেবা নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’এ সময় তিনি রোস্টার পদ্ধতিতে সব হাসপাতালে চিকিত্সকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন—ঈদের ছুটিতে হাসপাতালে রোগী সেবার দুর্বিসহ চিত্র দেখা যায়। চিকিত্সক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একযোগে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান। এতে করে রোগীরা চিকিত্সা বঞ্চিত হন। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এ সব থেকে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিত্সকদের আরো বেশি আন্তরিক ও যত্মবান হয়ে চিকিত্সা সেবা প্রদানের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মহাখালীতে বেদখলকৃত সরকারি জমি ঈদের পর উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন—সরকারি শত শত একর জমি দখল করে বস্তি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে করে আশপাশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ঈদের পর এ জমি উদ্ধারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। ওই জমি দখলমুক্ত করে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রথমে তিনি আউট ডোরে প্রবেশ করেন। একে একে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগ ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেন।
টয়লেট, মেঝেসহ হাসপাতালের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা আরো বাড়াতে হবে।
মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালকে দালালমুক্ত রেখে সেবার মান বাড়ানোর জন্য পরিচালককে নির্দেশ দেন। আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিত্সকদের উপস্থিতিতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক, পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।