হ্যাঁ, বাঘই বটে। বাংলাদেশের তরুণ বাঘ নাসির হোসেন। আগে ছিলেন টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান; পার্ট টাইমার স্পিনার বা স্লো মিডিয়াম পেসার। গত কিছুদিন, বিশেষ করে মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে নিয়মিত দশ ওভার বল করছেন; সাফল্যও পাচ্ছেন। মাশরাফি যে জন্য সম্প্রতি বলেছিলেন, দলের সেরা অফস্পিনার নাসির।
প্রসঙ্গটা শুনে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের পর খুব হেসেছিলেন নাসির। একেবারে খাটি আঞ্চলিক ভাষায় বলেছিলেন, ‘আমাদের এগারো জনের মধ্যে অফ স্পিনার আর নেই, সেক্ষেত্রে হয়তো আমিই সেরা! বাঘ নাই বনে বিলাই রাজা, আর কী!’
নাসিরের কথা একদম বিশ্বাস করবেন না।
দলে তো মাহমুদউল্লাহ ফিরে এলেন; মাঝে সোহাগ গাজীও ফিরেছিলেন। তারপরও রবিবার নাসির বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ‘বিলাই’ নন; সত্যিকারের বাঘ। তিনি আসলেই সেরা অফস্পিনার এই দলের। শুধু অফস্পিনার বললে অবমাননা হয়। সম্ভবত, একেবারে সাম্প্রতিককালে দলের সেরা অলরাউন্ডার; সেরা ফিল্ডার, অন্যতম সেরা বোলার ও ব্যাটসম্যান।
বোলিংয়ের ব্যাপারে নাসিরের কোনো কালেই আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না। দলে ঢোকার পর শুরুতে অফস্পিন ও স্লো মিডিয়াম পেস, দুটোই করতেন। সেই সময়ে তার উইকেট পেয়ে উদযাপন নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে।
তবে মাঝে বড় একটা সময় ধরে বোলিং করার সুযোগ পেতেন না। মাঝে তো ব্যাটেও রান হারিয়ে ফেলেছিলেন। অবশেষে বিশ্বকাপের আগে আগে যখন দলে ফিরলেন, তখন নাসির রীতিমতো ‘সাকিব’ হয়ে ওঠার পথে। অবশ্য বোলিংয়ের ব্যাপারে এই সেদিনও নাসির বলছিলেন, ‘আত্মবিশ্বাস আমার আগে থেকেই ছিল। কোন কারণে হয়তো (বল হাতে নেওয়া) হয়নি। জাতীয় দলে অনেক সময় হয়তো রিয়াদ ভাই ছিল, আরও অনেকে ছিল। এই কারণে হয়তো বোলিং করার সুযোগ হয়নি। তারপরও আমি প্রিমিয়ার লিগে সব সময় দশ ওভার করে বোলিং করি। আত্মবিশ্বাস তাই সব সময়ই ছিল।’
সেই আত্মবিশ্বাসটা ঠিক কোন পর্যায়ের তারই প্রমাণ দিলেন রবিবার।
ফিল্ডিংয়ে যেন সারা মাঠের প্রতীক হয়ে উঠলেন একা। পয়েন্ট ও গালিতে ঘুরেফিরে ফিল্ডিং করলেন নাসির ও সাব্বির। দু জন চিতাবাঘের মতো ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে দলকে নতুন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আর মাশরাফির বলে ডিপ মিডউইকেটে বেহারডিনের অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে আক্ষরিক অর্থে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গুটিয়ে দিলেন।
আর এর মধ্যে বল হাতে রীতিমতো জাদু দেখিয়ে দিলেন। প্রথম স্পেলে বল করতে এসে টানা সাত ওভার বল করলেন। এর প্রথম বলেই তুলে নিলেন রুসোর উইকেট। প্রথম স্পেলের এই ৭ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে রুসো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ‘উপমহাদেশ বিশেষজ্ঞ’ ফাফ ডু প্লেসিসকে তুলে নিলেন।
আর শেষ বেলায় ১ ওভারের স্পেলে নিলেন কাইল অ্যাবটের উইকেট। সবমিলিয়ে ৮ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট। এই অংক অবশ্য নাসিরকে বোঝাতে পারে না।
নাসিরকে বুঝতে হলে ম্যাচের আগের দিনই তার বলা কথাটা স্মরণ করুন—অনেক কথা হবে, এটা ঠিক। তবে আমরা আগামীকাল ঘুরে দাঁড়াবোই।
নাসির নিজেই সেই ঘুরে দাঁড়ানোর পথটা দেখালেন।