এবারের ঈদ বাজারে ছোট-বড় শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে মেয়ে বিক্রয় কর্মীরা। যারা খণ্ডকালীন হিসেবে চাকরি করছে বিক্রয় কর্মী হিসেবে— এদের মধ্যে সবাই সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জানাচ্ছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক
ফাহিদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল সাতের দেশী দশের একটি দোকানে খণ্ডকালীন বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘রমজান মাসটি পুরো অবসর আমার। বাড়ি যাব মাত্র ঈদের কয়েকদিন আগে। তাই বন্ধু-বান্ধব মিলে আমরা বিভিন্ন শপিংমলে রমজানে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য অ্যাপ্লাই করেছি। হয়ে গেছে তাই কাজ করছি। সব মিলিয়ে কিছু বাড়তি টাকা পাচ্ছি এতে মন্দ কি।’
বিভিন্ন শপিংমলে গেলে চোখে পড়ে পরিপাটি ইউনিফর্ম পরা তরুণীদের। যাদের ক্রেতা প্রবেশের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় তত্পরতা। দোকানের পণ্য ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরেন। পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা থেকে শুরু করে এর সঙ্গে কী অফার রয়েছে তা ক্রেতাদের জানিয়ে দেন। এভাবে ঈদের বাজারে শপিংমলগুলোতে বেচাবিক্রিতে নৈপুণ্য প্রদর্শন করছেন এক ঝাঁক তরুণী। যারা রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী। তবে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বেশি। এবারের ঈদের বাজারে ঢাকার সব শপিংমলে কাজ করছে শত শত তরুণী। আবার কোনো কোনো দোকানে শুধু মেয়েরাই বিক্রি করছেন। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যপারে জানা যায়, একেক প্রতিষ্ঠানে একেক নামে এসব বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। বিপি বা বিজনেস প্রোমোটার, প্রোডাক্ট প্রোমোটার, সেলস অফিসার, সেলস গার্লস— এ রকম নানা নামে পরিচিত তারা। সেলস গার্লদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে কয়েকভাবে। কোনো কোনো কোম্পানি সরাসরি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। এক্ষেত্রে দোকান বা শপিংমলগুলোতে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদেরকে আহ্বান করে। যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিয়োগের আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সেলস গার্লদের রিক্রুট করে থাকে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগকৃত সেলস গার্ল হচ্ছেন থার্ড পার্টি। সব ক্ষেত্রেই চাকরির মেয়াদ হয় ইভেন্ট চলা পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। সাহসী, বুদ্ধিমান ও আত্মবিশ্বাসী মেয়েরাই এক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। আকর্ষণীয় চেহারা ও সুন্দর বাচনভঙ্গির দিকটাও বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে এইচএসসি পাস হতে হয়। নিয়োগের পর পণ্যের গুণাগুণ তুলে ধরতে তাদের দেয়া হয়েছে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। ঈদের বাজারে মেয়েদের কাজ করতে হয় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা বা ১১টা পর্যন্ত। তবে কোনো কোনো দোকানে বা হাউসে দুই শিফটে কাজ করতে হয়। এসব বিক্রয় কর্মীর বেতন সাধারণত ১৫-২০ হাজার টাকা। তবে বেশির ভাগই তাদের বেতন দিন হিসেবে ধরা হয়। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, বেচাকেনায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করতে পারলে রয়েছে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরির সুুযোগ। যে কোনো চাকরিতে অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখের সুযোগ তো রয়েছেই। কপালের টিপ থেকে শুরু করে টিভি-ফ্রিজ বিক্রিতে অসধারণ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন এসব বিক্রয় কর্মী। আশা ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ সপ্তম সেমিস্টারে পড়াশোনা করছেন ফারিয়া। ভার্সিটির ডিপার্টমেন্টের একজন বড় আপুর মাধ্যমে সীমান্ত স্কয়ারের একটি কাপড়ের শোরুমে চাকরি নিয়েছেন। তিনি জানান, জীবনের প্রথমবারের মতো এ ধরনের কাজে এসেছি। খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের প্রতি সবাই খুব আন্তরিক। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করেন। ধানমন্ডি পনের নাম্বারের সেইলরে কাজ করেন আখি। তিনি পড়াশোনা করেন ইডেন মহিলা কলেজে। এখানে কাজে কোনো প্রকার সমস্যাই হয় না। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে বিক্রয়কর্মী হিসেবে ভালো করছেন মেয়েরা। ধারণাই ছিল না এত সহজে বিক্রয়ের কাজ করা সম্ভব।