কাউখালীতে পানের দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা

কাউখালীর সুস্বাদু পানের সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। কিন্তু এবছর কাউখালীর হাট-বাজারগুলোতে পানের দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলার প্রায় দেড় হাজার পান চাষি। বৈধ, অবৈধ পথে ভারত থেকে সস্তায় পান আসার কারণে দেশীয় পানের বাজারে ধস নেমেছে। ফলে চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। 

 
কাউখালী পান চাষি সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায়  দেড় হাজার পান চাষি আছেন যারা ১০০-১৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছেন। উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের একমাত্র আয়ের উত্স এই পান চাষ। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পান চাষিদের কয়েক বছর লোকসান গুনতে হয়েছে। গতবছর পানের ভাল ফলন ও আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এবার চাষিরা ঝুঁকে পড়েন পান চাষে। কিন্তু এবার বৈধ ও অবৈধ পথে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পান আসায় কাউখালী এবং সেই সঙ্গে ঝালকাঠী জেলার চাষিরা পানের বরজ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। একদিকে এক শ্রেণীর কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পান আমদানি করছেন, অন্যদিকে অবৈধভাবে চোরাই পথেও সেদেশ থেকে আসছে পান। এসব পান বাজারজাত হওয়ায় দিন দিন কমতে শুরু করেছে দেশি পানের দাম। দাম এতোই কম যে উত্পাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন পান চাষিরা। লোকসানের চাপে অনেকে গুটিয়ে নিয়েছেন পানের বরজ।
 
চাষিরা বলছেন, এক মাস আগেও যে পান ১শ’ টাকা বিড়া দরে বিক্রি হয়েছে সেই পান বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি বিড়া ২০ টাকায়। যার ফলে পানের বরজে বিনিয়োগ করা অর্থ কোনোভাবেই উঠে আসবে না বলে আশংকা করছেন চাষিরা।
 
সম্প্রতি হাট-বাজার ঘুরে পান চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মওসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবং পানের বরজে কোন প্রকার রোগবালাই দেখা না দেয়ায় বিপুল পরিমাণ পান উত্পাদন হয়েছে।
 
বিগত বছর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পান বিক্রি করে শত শত পরিবার লাভবান হয়। তাই চলতি বছরের শুরু থেকে পান উত্পাদনে উত্সাহী হয়ে কৃষকরা অধিক পরিমাণে পানের বরজ করেছে। কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও দাম পড়ে যাওয়ায় চাষিদের লোকসান গুনতে হবে।
 
কাউখালীসহ পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী পান প তিদিন ঢাকা, চাঁদপুর কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। এছাড়া দেশের বাইরে রপ্তানিও করা হয় এই অঞ্চলের পান। কিন্তু এবারে পিরোজপুরে পান চাষিদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পিরোজপুর জেলা পান চাষি সমিতির সভাপতি কমরেড নিমাই মন্ডল বলেন, ঋণ ও মহাজনী দাদন নিয়ে চাষিরা পান চাষ করে থাকেন। কিন্তু অনেকে ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে পান আমদানি করায় এ অঞ্চলের চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। তারা বাজারে পানের দাম পাচ্ছেন না। পান চাষিদের বাঁচাতে তাই ভারত থেকে পান আমদানি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে এই জেলায় পান চাষিদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকার পান চাষিদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে আবারও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
 

পান আমদানি বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছেন উপজেলার পান চাষিরা। মহাসড়কে তারা ঘন ঘন মানববন্ধন, মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। তাদের এ আন্দোলনকে যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করছেন এলাকার অনেক জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহল।