নিজ দলে তীব্র বিরোধিতার মুখে সিপ্রাস

 
ইউরোজোনের নেতাদের সঙ্গে সোমবার তৃতীয় দফা বেইল আউট চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের রাজনৈতিক জোট ও দলের মধ্যে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। সিপ্রাসের এই পদক্ষেপ জার্মানির দাবির কাছে আত্মসমর্পণের সমতুল্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
 
এদিকে, এই চুক্তির বিরুদ্ধে বুধবার দিনব্যাপী ধর্মঘট আহ্বান করেছে দেশটির সরকারি কর্মজীবীদের একটি সংগঠন। সোমবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে সংগঠনটি এই অবরোধ ডাক দেয়। সিরিজা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দেশটিতে অবরোধ হতে চলেছে।
 
বুধবারের মধ্যে ওই চুক্তিটি গ্রিক পার্লামেন্ট পাস করানোর জন্য সিপ্রাসকে তাই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ভোটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এদিকে, চুক্তির বিরোধিতায় বুধবার ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে সরকারি কর্মজীবীদের একটি সংগঠন।
 
নতুন বেইল আউট চুক্তিটি নিয়ে নিজের দেশে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিপ্রাস। ক্ষমতাসীন জোট, নিজের দল ও দলের বাইরের অনেকেই এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, অত্যন্ত অবমাননাকর সব শর্ত মেনে সিপ্রাস এই চুক্তিতে রাজি হয়েছেন।
 
চুক্তির শর্তাবলী যেমন কর বৃদ্ধি, পেনশন কর্তন এবং চাকরি বিধিতে পরিবর্তন আনার যে প্রতিশ্রুতি সিপ্রাস ইউরোপের নেতাদের দিয়েছেন, তা পার্লামেন্টে পাস করানো সহজ হবে না বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আগামী বুধবারের মধ্যে এসব সংস্কার প্রস্তাব পার্লামেন্টে অনুমোদন করাতে হবে। ফলে বুধবারের মধ্যে নতুন বেইল আউট চুক্তির বিষয়ে পার্লামেন্টের সমর্থন পেতে তাকে ইউরোপপন্থী বিরোধীদলগুলোর উপরই নির্ভর করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
এতে তার সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যার ফলে গ্রিসে হঠাৎ করে নতুন জাতীয় নির্বাচনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
 
ক্ষমতাসীন সিরিজা পার্টির সংসদ সদস্যরা ও তার জোট সরকারের অংশীদার ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রিস পার্টি ইঙ্গিত দিয়েছে, যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন নির্বাচনের সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙবেন না তারা। সিপ্রাসের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির নেতা প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যানোস কেমেনোস বলেছেন, ‘আমরা ওই বিষয়ে একমত নই। সংসদীয় গণতন্ত্রে নিয়ম-কানুন আছে আর আমরা তা ঠেকিয়ে দিব।’
 
এছাড়া সিরিজার প্রভাবশালী বামপন্থী নেতা পার্লামেন্টের স্পিকার জোই কনস্টান্টিনোপোউলো বেইল আউটের শর্ত মেনে নেয়ায় সিপ্রাসের বিরোধিতা করেছেন। পার্লামেন্টের অধিবেশনে বেইল আউটের বিষয়ে তিনিও কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স