ইরানের সাথে চুক্তির বিরোধিতায় রিপাবলিকানরা

 
পরমাণু ইস্যু নিয়ে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী রিপাবলিকান পার্টি। এর আগে দুপক্ষের সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
 
চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এরই মধ্যে আনন্দ-উল্লাস করেছেন ইরানিরা। অপরদিকে তার প্রতিক্রিয়ায় চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
 
ভিয়েনায় গত মঙ্গলবার পরমাণু চুক্তিতে সমঝোতা হওয়ার পরপরই একে স্বাগত জানান ওবামা। তিনি বলেন, ‘এর ফলে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিটি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে করা হয়নি, যাচাই-বাছাইয়ের পরই করা হয়েছে।’
 
তবে ওবামার বিরোধিতা করে এ চুক্তির নিন্দা করেছেন দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা। মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে রিপাবলিকানদের মুখপাত্র জন বোহনার বলেন, ‘এ চুক্তি তেহরানকে (ইরানের রাজধানী) আরও সাহসী করে তুলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে দেয়ার রসদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।’ রিপাবলিকান সিনেটর ও সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী লিন্ডসে গ্রাহাম এ চুক্তিকে ‘ভয়ানক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
 
রিপাবলিকানদের এই বিরোধিতা দেশটির কংগ্রেসে চুক্তি স্বাক্ষরের বিলটি পাসের বিষয়কে হুমকির মধ্যে ফেলে দিল। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসে ইরানের চুক্তির বিষয়টি অনুমোদিত হতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা বিলটি আটকে দেবে।
 
তবে রিপাবলিকানদের এই বিরোধিতার ব্যাপারে অগ্রিম হুমকি দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসে এই বিল বন্ধের যে কোনো চেষ্টায় তিনি ভেটো দেবেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আলোচনায় অংশ নেয়া বিশ্বশক্তির অপর রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির পার্লামেন্টেও চুক্তির বিষয়টি অনুমোদিত হতে হবে।
 
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সমঝোতার পর এরই মধ্যে দেশটির  রাজপথে উল্লাস করেছেন ইরানি জনগণ। নেচে, গেয়ে উদযাপন করেন তারা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফেরও প্রশংসা করে জনতা।
 
দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এর প্রশংসা করেছেন। এ চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ ও তা ‘নতুন দিগন্তের দরজা খুলে দেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন রুহানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, এ চুক্তিতে উভয়পক্ষই বিজয়ী হয়েছে।
 
ইরান ও এর মিত্ররা চুক্তিকে সাধুবাদ জানালেও এতে বেশ রুষ্ট সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে অনুমোদনের ঘটনায় স্পষ্টত নাখোশ সৌদি। বর্তমানে সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে যুদ্ধে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব এবং ইরান।
 
এদিকে, যথারীতি চুক্তিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইরান দেশটির জন্য হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে নিজেদের আত্মরক্ষায় সব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স