যশোরে শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যার ১৫তম বার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। আইনি মারপ্যাঁচে থমকে রয়েছে আলোচিত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া। হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় নিহতের পরিবারের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ যশোরের সাংবাদিক সমাজ। দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল ২০০০ সালের ১৬ জুলাই পত্রিকার যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যা মামলায় ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ওই সময় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুন করে আসামি করা হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ঠজনদের। এতে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবার পাশাপাশি দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। মামলার বাদী শহীদ সাংবাদিকের সহধর্মিনী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিল আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিরক পলাতক রয়েছে। হিরকসহ মামলার অন্যান্য আসামির সাথে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্য রয়েছে। ফলে তার পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষী দেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেয়া হবে না জানতে হাইকোর্ট সরকারের উপর রুলনিশি জারি করেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে রুলের জবাব না দেয়ায় মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া থেমে যায়।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে শামছুর রহমান হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে উল্লেখ করে যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, তারাও চান দ্রুত এ মামলার বিচার কার্যক্রমের স্থবিরতা দূর করতে। এজন্য রুল নিষ্পত্তিতে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান। উল্লেখ্য, এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ জনের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’। আরেক আসামি খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র্যাবের ক্রসফায়ারে, কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন কালু হার্টস্ট্রোকে এবং যশোর সদরের চূড়ামনকাটির আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন।
শামছুর রহমানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব, যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।