ঋণ ছাড় দেয়ায় ইইউ’র কঠোর নিন্দায় আইএমএফ

ঋণ সংকট থেকে গ্রিসকে রক্ষা করতে দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তৃতীয় দফায় বেইলআউট প্রকল্পের অধীনে ঋণ ছাড় দেয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। এদিকে আইএমএফ’র নিন্দার একদিন পর গতকাল বুধবার ঋণ সংকট নিয়ে ফের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির ঘোষণা দিয়েছের গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

 
বিবৃতিতে আইএমএফ জানিয়েছে, গ্রিসের সাধারণ ঋণ দেশটিকে খুবই অস্থিতিশীল করে তুলেছে। দেশটির ঋণ সংকট থেকে মুক্তি প্রয়োজন। গ্রিসকে দেয়া ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনারও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই সংস্থাটি। আইএমএফ স্পষ্ট করে জানায়, জার্মানি এবং এর মিত্ররা যদি গ্রিসের ঋণের পরিমাণ না কমায় তাহলে দেশটিকে পরবর্তী কোনো ধরনের ঋণ ছাড়ের ব্যাপারে অংশ নেবে না তারা। গ্রিসের মোট ঋণের ১০ শতাংশই সরবরাহ করে থাকে আইএমএফ। এর আগে জুনের শেষ দিন গ্রিসকে ঋণ পরিশোধে আইএমএফের দেয়া দ্বিতীয় সময়সীমার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে সংস্থাটিকে ১৬০ কোটি ইউরো প্রদান না করতে পারায় ঋণখেলাপি হিসেবে নাম লেখায় গ্রিস।
 

এদিকে ইউরোজোনের নেতাদের দেয়া গ্রিমসকে নতুন ৮ হাজার ৬০০ কোটি ইউরোর বেইলআউটের ব্যাপারে দেশটির পার্লামেন্টে গতকাল ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন শর্তযুক্ত ঋণ নেয়ার বিষয়ে ক্ষমতাসীন বামপন্থী সিরিজা পার্টির মিত্র দলগুলোর মধ্যেও বিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ভোটাভুটির পর্বটি বেশ জটিল আকার ধারণ করবে। এর আগে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জার্মানির নেতৃত্বাধীন ইউরোজোনের নেতাদের দেয়া শর্তযুক্ত ঋণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে দেশটিতে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটেও জনগণ দাতাদের শর্তযুক্ত ঋণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তবে পরবর্তী সময়ে বাস্তবতার নিরীখে ইস্যুটিতে নমনীয় হন সিপ্রাস। ইউরোজোনের নেতাদের কাছে নতুন ঋণের প্রস্তাব দেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিসকে নতুন করে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার সিপ্রাস বলেছেন, ‘যদিও ঋণচুক্তির ব্যাপারে আমার বিশ্বাস নেই, কিন্তু এ ছাড়া আমাদের সামনে কোনো বিকল্পও নেই।