কাশ্মীরের বিতর্কিত অঞ্চলে ভারতের চালকবিহীন একটি গোয়েন্দা বিমান (ড্রোন) ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তবে, ভারতের সেনা ও বিমান বাহিনী তাদের কোনো ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত হওয়া কিংবা বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছে।
তবে ভারত অস্বীকার করলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাক-ভারতের রাজনীতি ও কূটনীতি। উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে কাশ্মীর সীমান্তেও। সেখানেও ড্রোন ভূপাতিত করার পর দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। গত সপ্তাহে রাশিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মধ্যে বৈঠকের কয়েকদিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত সীমানায় ভিমবারের কাছে বুধবার ভারতের একটি গোয়েন্দা ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে পাকিস্তানের সেনারা। ড্রোনটি আকাশ থেকে ছবি তোলার কাজে ব্যবহার করা হয়।’ তবে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র।
হঠাত্ উত্তপ্ত রাজনীতি:সম্প্রতি নওয়াজ-মোদী বৈঠকের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করতে শুরু করেছিলেন, দিল্লি-ইসলামাবাদ গরম সম্পর্ক এবার বোধহয় স্থায়ীভাবে নরম হতে চলেছে। কিন্তু পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আকাশে ড্রোন ইস্যুতে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে সমন পাঠালো পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের দাবি, অসত্ উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের ভৌগলিক সীমানার ছবি তুলতেই পাঠানো হয়েছিল ভারতের গুপ্তচর ড্রোন।
এদিকে পাকিস্তানের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতীয় সেনার কোনও ড্রোন কোথাও ভেঙে পড়েনি। তাই পাকিস্তানের এই দাবি হাস্যকর ও উত্তেজনা সৃষ্টির অপপ্রয়াস মাত্র। এদিকে, এই ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ৫টি সীমান্তবর্তী সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক মর্টার হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। দু’পক্ষের ক্রমাগত মর্টার হামলায় বিধ্বস্ত হয় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো। এই গোলাগুলির বলি হয় পাঁচজন নিরীহ লোক।
গুলি চললে পাল্টা জবাব: পাকিস্তান হামলা চালালে তার সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তানি সেনাদের দাবি নাকচ করে জয়শঙ্কর গতকাল বলেন, ‘পাক সেনা যে ড্রোনের কথা বলছে, তা আদৌ ভারতের নয়। বরং পাক সেনাই বারবার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ বার চুক্তি লঙ্ঘন করে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে পাক সেনারা।’ তাই সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এবার সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রই কাশ্মীর ভূখণ্ডকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়েছিল। ২০০৩ সালে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু এরপরও প্রায়ই উভয় দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। সীমান্তে নিয়মিত চলছে গোলাগুলি।