১৮৮তম ঈদ জামাত শোলাকিয়ায়

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ঈদ জামাতের মাঠ কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত রয়েছে। এবারও এখানে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত। তিন লাখেরও বেশি মুসল্লি একসঙ্গে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। 
 
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে শোলাকিয়ায় নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। 
 
প্রতি বছর ১লা শাওয়াল ও ১০ই জিলহজ্জ যথাক্রমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শোলাকিয়া ঈদগাহের জামাত শুধু দেশের নয় উপমহাদেশের ও বৃহত্তম ঈদ জামাত হিসেবে বিবেচিত। হারমাঈন শরীফাঈনের পর শোলাকিয়া ঈদগাহে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
 
ঐতিহ্যবাহী এ মাঠটিতে সাধারণ মেহরাব ও একটি তোরণ ছাড়া তেমন কোনও স্থাপত্য সৌন্দর্য নেই। মুসল্লিরা মাটিতে নামাজ পড়েন। ফলে বৃষ্টি হলে মাঠে কাদা হয়ে যায়, মুসল্লিরাও বিপাকে পড়েন।
 
দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ অনুযায়ী ঈদের জামাত শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পূর্বে ৩টি, ৩ মিনিট পূর্বে ২টি ও ১ মিনিট পূর্বে ১টি শটগানের গুলি ছুড়ে নামাজ শুরু করা হয়।
 
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়ীয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামাত সোয়ালাখ মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেছিলেন। অন্যমতে, মুঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।