কিবরিয়া হত্যায় কারাবন্দি গউছের ওপর হামলা, হবিগঞ্জে হরতাল

 
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে আটক হবিগঞ্জ পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র ও জেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছের উপর শনিবার সকালে ঈদের জামাতের পর হামলা করেছে এক কয়েদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা কারা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে প্রতিবাদে রবিবার সকাল-সন্ধ্যা জেলায় হরতাল আহ্বান করে।
 
জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সকাল নয়টায় কারাগারে ঈদের নামাজের পর শায়েস্তাগঞ্জের সুজন হত্যা মামলার আসামি ইলিয়াছ মিয়া আকস্মিক পৌর মেয়র জি কে গউছের ওপর একটি প্লাষ্টিকের বালতির হ্যান্ডেল দিয়ে হামলা চালায়। এতে গউছের মেরুদন্ডের ডানপাশে চামড়ার কিছু অংশ কেটে যায়। তাত্ক্ষণিক হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের দুইজন ডাক্তার এসে তাকে চিকিত্সা দেন। বিকেল সোয়া তিনটায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আসামি  ইলিয়াছের বিরুদ্ধে কারা নিয়ম অনুযায়ী পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
গউছের ভাই জি কে গফ্ফার জানান, সকালে তাকে কারাগার থেকে ফোন করে বলা হয় তার ভাই আহত হয়েছেন। এসে দেখেন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ইলিয়াছ আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশে ধারালো লোহার রড দিয়ে পিঠে আঘাত করেছে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ দিনভর তার ভাইয়ের চিকিত্সায় অবহেলা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
 
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা দলে দলে এসে কারা ফটকের সামনে হাজির হয়। এখানে হামলার ঘটনায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে। রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সর্বত্র হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।
 

এদিকে উক্ত হামলার ঘটনায় তার সমর্থক নারী-পুরুষরা কারা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা কারাগারের প্রধান ফটকে ধাক্কা দিতে থাকে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ প্রথমে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। পরে কারাগারে ছুটে যান পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশফাকুল ইসলামসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা।