ঈদ বঞ্চিত টেকনাফের ২০ গ্রামের মানুষ

 
 
কক্সবাজারের টেকনাফে বেড়িবাধের খোলা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ডুকে বসতবাড়ি-রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ডুবে থাকায় স্থানীয় লোকজনকে নৌযান নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে ২০ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ নেই।
 
শনিবার জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের প্রায় আট গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহপরীর দ্বীপ ইউপি সদস্য আবদুস সালাম। তিনি জানান, বেড়ি বােঁধর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে আমাদের গ্রাম গুলো পানি বন্দি হয়ে আছে। এতে এলাকার লোকজনের মাঝে ঈদের দেখা নেই। বরং তাদের কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
 
২০১২ সালের ২২ জুলাই মাসে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া বাধের প্রায় তিন কিলোমিটার ও টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ সাগরের জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। এরপর থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ। তিন বছরেও বাধ ও সড়কটি পুননির্মাণ হয়নি। ফলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কার্যত বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মানুষ।
 
দেখা গেছে, টেকনাফ থেকে ১৩ দশমিক ৭ কিলোমিটারের সড়কটির শাহপরীর দ্বীপের উত্তরপাড়া থেকে হারিয়াখালী পর্যন্ত অংশ বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের ওই অংশ পার হতে হচ্ছে নৌকায় করে। ভাটার সময় পানি কম থাকলে কাঁদা মাড়িয়ে অনেকে হেঁটে পার হচ্ছেন ওই অংশ। এ নিয়ে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। শাহপরীর দ্বীপের অনন্ত ২০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। জোয়ারের তোড়ে পশ্চিমপাড়া পুরো; ঘোলাপাড়া, দক্ষিণপাড়া ও মাঝেরপাড়ার একাংশেসহ চারটি গ্রাম সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
 
উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রেজাউল করিম, বিলপাড়ার গৃহিনী নুর জাহান বেগম ও মাঝেরপাড়ার আজগর আলী  ক্ষোভ করে বলেন, প্রতিমাসে জোয়ারের পানিতে আমাদের বসতবাড়ি ১৪দিন পর্যন্ত ডোবা থাকে। ধর্মীয় বড় উত্সব হলেও সে আমেজ এখানে নেই। কারণ ঈদের দিন জোয়ারের বাড়বে তাই। তারা আরও বলেন, টেকনাফের সঙ্গে যোগাযোগের সড়কটি বিলীন হওয়ায় বর্তমানে নৌকায় করে চলাচল করতে হচ্ছে। নৌকা ডুবিতে এ পর্যন্ত নয়জন মারা গেছে।  
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেলে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময় বাঁধের প্রায় তিন কিলোমিটার ভেঙে যায়। এরপর ২০০১ সালে তিন কিলোমিটার বাঁধ নির্মিত হয়। কিন্তু ২০০৫ সালে আবার বাঁধ ভেঙে গেলে আবারও বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালের ২২ জুলাই বাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি, মত্স্য আড়ত ও দুটি মসজিদ ও টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপের একমাত্র চলাচলের সড়কটি  বিলীনের হয়ে যায়।
ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, ভাঙা বাঁধটি নির্মাণের জন্য সাড়ে ৯৭ কোটি টাকা খরচ করা হলেও পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বাঁধটি স্থায়ী হচ্ছে না। এখন ওই বাধটি খোলা থাকায় প্রতি অমাবস্যার ও পূর্ণিমার জোয়ারে ডুবছে পুরো এলাকা। তাই ঈদেরদিনও জোয়ারের ডুবার আতঙ্কে আছে দ্বীপের ৪০হাজার মানুষ।
পাউবোর টেকনাফের উপসহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, বাঁধের জন্য ১০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানান, বাধটি মেরামত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। বাধটি খোলা থাকায় ৪০হাজার মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না এবং স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।