শিক্ষা অধিদপ্তরের খাতায় তার পদ ‘সহকারী শিক্ষক’। নবম গ্রেডে বেতন পান তিনি। আবার নানা অনিয়মের কারণে তার এমপিও স্থগিত আছে। অধ্যক্ষ না হয়েও তিনি ‘অধ্যক্ষ’ পদ ব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন। রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। অধ্যক্ষ পদ ব্যবহার করে এই শিক্ষক প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। মিরপুরের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছে এখানে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ফরহাদ হোসেনের ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। আর এ কারণে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সচিবকে সুপারিশ করেছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে এই প্রতিষ্ঠানটিতে একাদশ শ্রেণিতে ছাত্র ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ থাকার কথা। কিন্তু ২০০৯-১০ সালের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন নিজেই এখন অধ্যক্ষ দাবি করছেন।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠানো দুর্নীতি দমন কমিশনের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে মনিপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ছাত্র ভর্তির অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু উক্ত অনুমোদন পত্রে কিংবা পরবর্তীতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেনকে অধ্যক্ষ হিসেবে অখ্যায়িত/ অবহিত/ সম্বোধন/ নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। তথাপিও ফরহাদ হোসেন স্বীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধ্যক্ষ পদ ব্যবহার করে বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ফরহাদ হোসেন অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য ছিলেন না। অথচ তিনি অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে স্বীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ম্যানেজিং কমিটি বরাবরে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যটি উত্থাপন না করে স্বঘোষিত অধ্যক্ষ পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজের তহবিল থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি টাকা উত্তোলন করেন।
গতকাল এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এটা বড় অনিয়ম। কিভাবে একজন সহকারী শিক্ষক অধ্যক্ষ পদ ব্যবহার করছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। কিভাবে এটা করা হলো। কেন করা হলো। কেন অযোগ্য ব্যক্তিকে এই পদে দেয়া হলো তা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক।
মাউশির ইআইএমএস সেলের এক তথ্যে দেখা গেছে, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের তালিকায় ১১ নম্বর অবস্থানে আছেন তিনি। তালিকায় ১ নম্বরে আছেন মো. আহাদ আলী। তিনি সপ্তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর ফরহাদ হোসেন পাচ্ছেন নবম গ্রেডে। মাউশির সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফরহাদ হোসেন নানা অনিয়মে জড়িত। এ কারণে শিক্ষা অধিদপ্তর তার এমপিও স্থগিত করে রেখেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, দুদকের কর্মকর্তারা আমার কাছে যে তথ্য চেয়েছে তা আমি দিয়েছি। এরপর ও কেন এটা করা হলো আমার বোধগম্য নয়।