চিতলমারীতে বাগদা চিংড়িতে মড়ক, চাষীরা দিশেহারা

চলতি বাগদা-গলদা চাষ মৌসুমে বাগেরহাটের চিতলমারী ও আশপাশ অঞ্চলসমূহে বাগদা চিংড়িতে ব্যাপক মড়ক লেগেছে। এতে ঋণগ্রস্ত চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চিংড়ি চাষীদের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে বলে অভিজ্ঞ মৎস্য চাষীরা মনে করেন। 
 
ইতোমধ্যে ঘেরে মড়ক লাগায় এ অঞ্চলে প্রায় ৪ হাজারের মত ঘেরের বাগদা নষ্ট হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা জানিয়েছেন। এর থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী চাষীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন। ঘেরে প্রয়োগ করছেন বিভিন্ন প্রকার তরল ঔষধ। অবলম্বন করছেন স্থানীয় সাধু ফকিরদের নিকট থেকে পানি পড়া ও ঘেরে লাল পতাকা উড়ানোসহ নানা আয়োজন। 
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চিংড়ি বিভিন্ন গ্রেডে উঠার সাথে সাথে ব্যাপক মড়কের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ঘেরের মাছ মরে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে চাষীরা জানান। প্রায় ১৫/২০দিন আগেও বাগদা মাছের কোন রোগ বালাই দেখা যায়নি। আকস্মিক এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। 
 
ডুমুরিয়া স্কুলের শিক্ষক ও মৎস্য চাষী সুকুমার মন্ডল জানান, গত বছর চিংড়ির মূল্য কম থাকলেও কিছু মাছ পেয়েছিলাম। এ বছর মোটেও তা পাব বলে মনে হচ্ছেনা। এখানকার অভিজ্ঞ মৎস্য চাষীরা মনে করেন, রামপালের ঘসিখালীর প্যানেল খনন করায় এ অঞ্চলে এ বছর লবণের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে লবণের তীব্রতা অপরদিকে খরতাপ ও ভারী বৃষ্টি সব মিলিয়ে  পানিতে বিষক্রীয়া সৃষ্টি হওয়ার ফলে মড়ক লেগেছে বলে তারা জানান। 
 
অনেকে জানান, স্থানীয় কতিপয় অসাধু ও প্রভাবশালী মহল ওয়াবদার স্লুইচ গেটের দরজা উঠিয়ে দিয়ে অধিক পরিমাণ পানি বিলে প্রবেশ করিয়েছে। অধিকাংশ মৎস্য চাষী মনে করেন, অপরিকল্পিত বাগদা রেনুর সাথে ভাইরাস যুক্ত ছিল। যার কারণে এ মড়ক লাগতে পারে। গত কয়েক বছর লবনের তীব্রতা না থাকায় এখানকার চিংড়ি চাষীরা অনেকা লাভবান ছিলেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চাষীরা সুদে মহাজনী, ব্যাংক ঋণ, এনজিও লোন ও কারেন্ট সুদের চাপে চাষীদের পালিয়ে বেড়াতে হবে।
 
উপজেলার পারডুমুরিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষী ইমরান চৌধুরী, সিরাজ শেখ, শ্রীরামপুর গ্রামের লতিফ শেখ, আলিসানাসহ অনেকে জানান, ৭/৮দিন পূর্বে মড়ক লাগার ফলে তাদের ঘেরে মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এবার সান্তনামূলক ঈদ পালন করেছেন। পরিবারের মাঝে নতুন পোশাক দিতে পারেন নি। ধার কর্জ করে ঈদ চালাতে হয়েছে। 
 
সফল চাষী বিমল বালা, উজ্জল বালা ও সাধন বৈরাগী জানান, এলাকায় শতকরা ৯০ভাগ ঘেরে মড়ক দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শেখ সাংবাদিকদের জানান, এলাকায় অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরে মড়ক লাগার খবর পাওয়া গেছে। এতে চাষীরা মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 
 
এ ব্যাপারে চিতলমারী মৎস্য কর্মকর্তা গৌতম মন্ডল জানান, এ বছর অত্র অঞ্চলে ৫৯৩০ টি ঘেরে বাগদা ও ৯৮২০ ঘেরে গলদা চাষ হচ্ছে। 
 
তিনি বিভিন্ন ঘের পরিদর্শন শেষে জানান, অধিকাংশ ঘেরে সম্প্রতি ধান কর্তন করা হয়েছে। কিন্ত ধানের মূল রয়ে গেছে জমিতে। আর সম্প্রতি তীব্র খরতাপে ধানগাছের মূল শুকিয়ে গেছে। এর ফলে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ধানগাছের মূল পচে ঘেরের ভেতর পড়েছে। যার ফলে ঘেরের পানি নষ্ট হয়েছে। যাতে মাছে মড়কের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ভারী বর্ষণের কারণে এই প্রাদুর্ভাব কমে যাবে বলে তিনি ধারণা করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী চাষীরা অত্র অঞ্চলের সংসদ সদস্য ও মৎস্য বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ  কামনা করেছেন।