রাজন হত্যা

"ওয়ার্কশপের বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে রাজনের উপর প্রায় আধঘণ্টা নির্যাতন চলে"

* রিমান্ডে থাকা আরো ৬ জনকে আজ রাতে জিঞ্জাসাবাদ করা হবে

* রিমান্ডের এক আসামী হাসপাতালে
সিলেটে চাঞ্চল্যকর রাজন হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না। আজ সোমবার বিকেলে রিমান্ড শেষে ময়নাকে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত জবানবন্দি দেন।
আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ময়না মামলার এজাহারে নাম থাকা চার আসামির একজন।
চাঞ্চল্যকর রাজন হত্যা মামলার আইও সুরঞ্জিত তালূকদার রাতে ইত্তেফাককে বলেন, সামিউলকে নির্যাতন ও হত্যায় সম্পৃক্ততার কথা ময়না স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানায়, সিলেটের পীরপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়না মিয়া কুমারগাঁও বাসস্টেশনের চৌকিদার ছিলেন।
গত ৮ জুলাই রাজনকে চোর অপবাদে ময়না আটক করে। এরপর সে কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকার একটি ওয়ার্কশপের বারান্দার খুঁটিতে বাধেঁ। তারপর সামিউলের উপর প্রায় আধঘণ্টা নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে সামিউল মারা গেলে ময়না পালিয়ে যান।
আইও সুরঞ্জিত আরো জানান ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে চৌকিদার ময়না মিয়াকেও জনতা, কমিউনিটি পুলিশ, পুলিশ মিলে আটক করে। পরদিন আদালত ময়নার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাজনকে নির্যাতন করে হত্যা ঘটনায় এ পর্যন্ত ধরা পড়া ১১ আসামির মধ্যে ময়না মিয়াই প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। এদিকে এই মামলায় রিমান্ডে থাকা আরো ৬ জনকে আজ রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান আইও সুঞ্জিত তালুকদার।
এ ৬ জন হচ্ছেন মুহিত, নূর আহমদ, দুলাল, রুহেল, ইসমাইল ও আলী হায়দার। আলী হায়দার রবিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ওসমানী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। সূত্র জানায় তার হৃৎপিণ্ডে জটিলতা দেখা দিয়েছে।