প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে চলা বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করেছে। দুই দেশে থাকা পরস্পরের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে পূর্ণ দূতাবাসের মার্যাদা দেয়া হয়েছে। গত ৫৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের।
সোমবার সকালে ওয়াশিংটনে নিজেদের দূতাবাসে কিউবার পতাকা উত্তোলন করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগুয়েজ। পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক মানুষ উপস্থিত হন যাদের মধ্যে ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কংগ্রেস সদস্য এবং কিউবার কূটনীতিকরাও ছিলেন।
পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করবেন রদ্রিগুয়েজ। ১৯৫৯ সালের পর এই প্রথম কিউবার কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক সফরে ওয়াশিংটন গেলেন।
এর আগে হাভানায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের পক্ষে থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পরিণত হবে। তবে কেরি সেখানে না যাওয়া পর্যন্ত দূতাবাসে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করা হবে না। আগামী মাসে কিউবা সফরে যেতে পারেন কেরি। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি পর্যবেক্ষণ করেন।’
কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হলেও এখনো অনেক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। কিউবায় ভ্রমণ ইচ্ছুক মার্কিনিদের ওপর এখনও আগের বিধি নিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া, আমেরিকার কোম্পানিগুলোর কিউবায় ব্যবসার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও অব্যাহত আছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কিউবার অর্থনীতিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করেন দেশটির কর্মকর্তারা। কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভোটের পর একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।