ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ব্যাখ্যা চাইবে বাংলাদেশ

ভারতের বহুল আলোচিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ভারতের পত্র-পত্রিকায় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিতে যাচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

 
গত ১৩ জুলাই ভারত জুড়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে তারই অংশ হিসেবে আসাম-পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার রাজ্যের ‘তিস্তা-গঙ্গা-মানস-সংকোষ’ নদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে ভারতের পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হয়। এদিকে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রী সানোয়ার লাল জাট জানিয়েছেন, তার মন্ত্রণালয় আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী সংযোগ প্রকল্প ‘মানস-সংকোষ-তিস্তা-গঙ্গা’র কাজ শুরু করবে। এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রী আরো বলেছেন, এ সংযোগ প্রকল্প শুধু এ অঞ্চলের কৃষি ও পানি প্রাপ্যতাকেই সহজ করে তুলবে না, একইসঙ্গে তা দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বিশাল পরিমাণ পানি চালান করবে।
 
এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নদী সংযোগ প্রকল্প বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে আমরা খুব দ্রুতই চিঠি (নোট ভার্বাল) পাঠাচ্ছি। এটা কোন প্রতিবাদ নয়। কেননা ভারতের পত্রিকার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রতিবাদ জানানোর কিছু নেই।
 
তিনি আরো বলেন, ভারত বারবার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোন পরিকল্পনা তারা করবে না। তাছাড়া, গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত কোন নদীতে এ ধরনের মহাপরিকল্পনা নিলে তা বাংলাদেশকে জানিয়ে করতে হবে।
 

উল্লেখ্য, ভারতের ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভলপমেন্ট এজেন্সি প্রায় ২০ বছরের পর্যবেক্ষণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৩৮টি নদীসহ বিভিন্ন নদীর মধ্যে ২৯টি সংযোগ খাল স্থাপনের পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনার বিশেষ দিক হচ্ছে নদীর এক অববাহিকার উদ্বৃত্ত পানি অন্য অববাহিকায় যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেখানে স্থানান্তর করা। এই ২৯টি সংযোগ খালের মধ্যে ১৩টি হিমালয় বাহিত আর ১৬টি পেনিনসুলার বা বিভিন্ন নদী ও উপদ্বীপ থেকে উত্সারিত। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত সারাদেশে ৭৪টি জলাধার ও বেশ কিছু বাঁধ নির্মাণ করবে। ফলে বর্ষার সময় সঞ্চিত পানি শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে কৃষি ও অন্যান্য কাজে সরবরাহ করা হবে। তারই অংশ হিসাবে এ নদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী।