জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম

জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে আধুনিক বসবাসোপযোগী অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম। ঈদের দিন রাতে জলাবদ্ধতায় আটকা পড়ে বেড়াতে যাওয়া অনেকে নিজ বাসায় ফিরতে পারেননি।

 
নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নং গেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, ছোটপোল, বড়পোল, বাকলিয়াসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ এলাকা ঈদের দিন রাতে কোমর পর্যন্ত পানিতে নিমজ্জিত ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত নগরবাসীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে। সড়কে থাকা হালকা যানবাহন রক্ষায় অনেককে গাড়ি থেকে নেমে তা ধরে রাখতে দেখা গেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা দোতলা থেকে দেখতে পেয়েছেন তাদের গাড়িগুলো পানিতে নৌকার মত ভাসছে। নিরুপায় বাসিন্দাদের তা অবলোকন করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না বলে জানান।
 
অর্থবিত্তশালীই নয় বরং মধ্য ও নিম্নবিত্ত এবং সাধারণ লোকজন বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে যে সকল এলাকায় পানি ওঠেনি ঈদের দিন রাতে ওই সকল এলাকায় পানিতে টইটম্বুর হয়ে গেছে। যারা বাসা বাড়িতে ছিল তারা ন্যূনতম হলেও তাদের মালামাল রক্ষা করতে পেরেছেন। কিন্তু ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন তাদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। ঈদের ছুটি শেষে বাসায় ফিরে লোকজন দেখতে পান তাদের মালামাল কোথাও কোথাও এক হাঁটু ময়লা আবর্জনা এবং মাটিতে ভরাট হয়ে আছে। এতো শুধু বাসাবাড়ির চিত্র। দোকানপাট, ছোটবড় কারখানা, শোরুমের মালামাল, যন্ত্রপাতি এবং পণ্যসামগ্রীর ক্ষতি অপূরণীয় বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
 

চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম নগরীকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে আসছেন নগরবাসীকে। বিশেষ করে মেয়রসহ জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নগরবাসী এখনো ন্যূনতম জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি। বরং দিন দিন এর মাত্রা বেড়েই চলেছে। একসময় নগরীর হালিশহর সিডিএ আবাসিক এলাকায় এক্সেস রোড, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যেতো না। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোতে প্রায় প্রতিদিন বেলা দেড়টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসকল এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকে। দিন দিন এর বিস্তৃতি ঘটছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতার জন্য বিশেষজ্ঞদের বহু বক্তব্য থাকলেও সবার ক্ষেত্রে একটি বক্তব্য স্পষ্ট। তাহলো অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে জলাবদ্ধতা  বেড়ে চলেছে। নগরীতে পানিপ্রবাহের সকল নালা-নর্দমা-খাল দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। আবার অপরিকল্পিতভাবে বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়েই চলেছে, তা উত্তরণে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।