নওগাঁ আধুনিক সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে বুধবার সকালে আব্দুস সালাম (৪৬) নামে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আব্দুস সালাম শহরের আনন্দনগর সরদার পাড়া মহলার আহম্মদ আলী মন্ডলের ছেলে।
এদিকে হাসপাতালে আব্দুস সালামের সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী খুশী বেগম ও শ্বাশুড়ী সাহিদা বেগম ভোর রাত থেকে পলাতক রয়েছে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ নিহতের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই মকছেদ আলী জানান, আব্দুস সালাম মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ভাই, স্ত্রী, শ্বশুড়, শ্বাশুড়ীসহ কয়েকজন নওগাঁ আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে রেখে সবাই রাত ১২টা দিকে বাড়িতে চলে আসে। সকালে স্ত্রী ও শ্বাশুড়ী মোবাইল ফোনে বাড়িতে জানান সালামকে হাসপাতাল থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।
পরে হাসপাতালের আরএমওর রুমের পিছন দিকে একটি মৃতদেহ উপর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সালামের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করে।
নিহতের পরিবারের দাবী, সালামকে তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে মৃতদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে যায়।
নওগাঁ সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মাহফুজার রহমান জানান, প্রসাবের সমস্যা দেখা দিলে মঙ্গলবার রাতে ভর্তি করা হলে আব্দুস সালামকে চিকিৎসা দেয়া হয়। ভোর রাত থেকে বেডে পাওয়া যায়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা মনে করেন রোগী বাড়ি চলে গেছেন। বুধবার সকালে তার অফিসের পেছনে আব্দুস সালামের মৃতদেহ পড়ে থাকলে দেখে পান স্থানীয়রা।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে। নিহতের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হাসপাতালের বেড থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সালামের স্ত্রী খুশী বেগম ও শ্বাশুড়ী সাহিদা বেগমকে আটক করতে পারলেই ঘটনার সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।