আগে চট্টগ্রামে টেস্ট খেলা হতো বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। আক্ষরিক অর্থেই সেটা তামিম ইকবালের বাড়ির উঠোন; স্টেডিয়াম থেকে ছক্কা মারলে বাড়ি পৌঁছে যায়!
এখন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটা বাড়ি থেকে একটু দূরে হলেও নিজের শহরের ‘চাপ’ সঙ্গী হয় এখানেও। একেবারে এই শহরেই বড় হয়ে ওঠা, এখানেই খেলা শেখা। তাই চট্টগ্রামে ব্যাট করতে নামলেই তামিমের ওপর প্রত্যাশাটাও একটু বেশী থাকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলকে সিরিজ জেতানো ফিফটি করে সেই প্রত্যাশা আবারও কিছুটা মিটিয়েছেন ওয়ানডেতে। আর বুধবার টেস্টে আরও একবার জ্বলে উঠলেন ঘরের মাঠে। বৃষ্টি এসে খেলায় বাগড়া দেওয়ার আগেই আউট হয়ে গেছেন। তার আগেই লো স্কোরিং ম্যাচে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসানোয় নেতৃত্ব দিয়েছে তামিমের ব্যাট। আউট হওয়ার আগে ১২৯ বলে মাত্র ৩টি চারে সাজানো ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছেন। তাতেই ছোটখাটো একটা মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছেন।
চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অর্ধশতক করে ক্যারিয়ারের একটা চক্র পূরণ করেছেন তামিম ইকবাল। ৮টি দেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন সব দলের বিপক্ষেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তামিমের টেস্ট রেকর্ড ছিল সবচেয়ে বাজে। এবারের আগে চার টেস্ট খেলে ৮ ইনিংসে রান করেছিলেন মাত্র ১০৩। গড় ছিল ১২.৮৭, সর্বোচ্চ ছিল ৩১। রেকর্ডটি ভদ্রস্থ করার সুযোগ ছিল এবার। শুরু থেকেই তামিম ছিলেন বেশ সতর্ক। নিজের সহজাত শট খেলার প্রবণতা দমিয়ে রেখে খেলেছেন সাবধানী ইনিংস।
সতর্ক ব্যাটিংয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। ১১৯ বলে ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ, বাউন্ডারি মাত্র দুটি! তামিমের ক্যারিয়ারের মন্থরতম অর্ধশতক অবশ্য এটি নয়। গত নভেম্বরে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন ১৬৯ বলে। তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেন্ট লুসিয়ায় ১৪৬ বলে। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই চট্টগ্রামেই পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন ১৩৩ বলে।
এবারের এই পঞ্চাশে ৮টি টেস্ট খেলা দেশের বিপক্ষে পঞ্চাশ ছোঁয়ার চক্র পূরণ হল তামিমের। এখনও টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি কেবল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই মৌসুমের আগে তিনটি দেশের বিপক্ষে পঞ্চাশ ছিল না তামিমের-জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গত নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পঞ্চাশ ছুঁয়ে সেটিকে রূপ দিয়েছিলেন শতকে। পরের টেস্টেও করেছিলেন শতক ও অর্ধশতক। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়ার স্বস্তিকে রূপ দিয়েছেন দ্বিশতকের আনন্দে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও পঞ্চাশ করে ফেললেন, তবে তা নিতে পারলেন না তিন অঙ্কে; ফিরে গেছেন ৫৭ রানে।
আউটের ধরণও ছিল বেশ হতাশাজনক। অনিয়মিত বোলার ডিন এলগারের নিরীহ এক ফুলটসে সুইপ খেলতে গিয়ে হয়েছেন বোল্ড। এর আগে অবশ্য মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৮৯ রানের জুটিতে দলকে গড়ে দিয়েছেন বেশ শক্ত ভিত।
৮টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে খেলে সবকটির বিপক্ষে পঞ্চাশ করেছেন তামিম ছাড়া বাংলাদেশের আর মুশফিকুর রহিম। মুশফিকও এখনও খেলার সুযোগ পাননি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সুযোগটি পেয়েছিলেন হাবিবুল বাশার এবং কাজেও লাগিয়েছেন। সবকটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেই পঞ্চাশ আছে বাংলাদেশের কেবল হাবিবুলেরই।
বাংলাদেশের এই দলের কেউই অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেননি। তবে অপেক্ষা ফুরাচ্ছে শিগগিরই। আগামী সেপ্টেম্বরেই ২টি টেস্ট খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। হাবিবুলের পাশে বসার সুযোগ তাই পাচ্ছেন তামিম-মুশফিকরা।