‘প্রাচীনতম’ কোরআন শরীফের অংশ বিশেষের সন্ধান

ব্রিটেনের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র কোরআনের একটি অংশের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো কোরআন। রেডিওকার্বন পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোরআনের এই অংশটি কমপক্ষে ১৩৭০ বছর আগের।

 
বিবিসি জানায়, মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় এই গ্রন্থটি বার্মিংহামের লাইব্রেরিতে সবার অগোচরে অন্তত ১০০ বছর ধরে রয়েছে। ব্রিটিশ লাইব্রেরি বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ ইসা ওয়ালি পবিত্র কোরআনের এ পৃষ্ঠাগুলো সম্পর্কে বলেন, ‘এটি অসাধারণ আবিষ্কার। মুসলিমরা এই আবিষ্কারে আনন্দিত হবেন।’ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন এক্সলেটর ইউনিটে পাণ্ডুলিপিটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর গবেষকরা বলেছেন, লেখার উপযোগী করে তৈরি পাণ্ডুলিপির চামড়াটি ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ের। এই পরীক্ষার পর গবেষকরা এটি প্রাচীনতম কোরআনের খণ্ডাংশ বলে নিশ্চিত হন। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ৬১০ খ্রিস্টাব্দে নবুয়ত প্রাপ্ত হন এবং ৬৩২-৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
 
গবেষকদের ধারণা, পাণ্ডুলিপিটি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায়ই লেখা হয় এবং কোনো একজন সাহাবী তা লিখেছিলেন।
 
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির মধ্যপ্রাচ্যের বইয়ের সংগ্রহশালায় কোরআনের এই খণ্ডাংশটি আবিষ্কৃত হয়।
 
একজন পিএইচডি গবেষক এই পৃষ্ঠাগুলো দেখে এগুলো ‘বেশ পুরনো’ মনে করে উত্সাহী হয়ে ওঠেন। এরপর তা রেডিওকার্বন বিভাগে পাঠানো হলে এর প্রাচীনত্বের বিষয়টি উদঘাটিত হয়।
 
এগুলো যে এত বছরের পুরনো গবেষকরা তা ভাবতেও পারেননি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সংগ্রহশালার পরিচালক সুসান ওরাল। বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘খ্রিস্টতত্ত্ব ও ইসলাম’ বিষয়ের অধ্যাপক ডেভিড টমাস বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ৬১০ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ সময়কাল জুড়ে কোরআনের বাণী প্রাপ্ত হন।’ তিনি বলেন, ‘যিনি এই পাণ্ডুলিপিটি লিখেছেন তিনি সম্ভবত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের মুখ থেকেই তা শুনেছেন।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের সময়ে পশুর চামড়া, পাথর, গাছের ছাল ইত্যাদিতে কোরআনের আয়াত লিখে রাখা হতো। এটি সে সময়েরই লেখা বলে মন্তব্য করেন টমাস।
 
তিনি আরো বলেন, ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর সময়ে কোরআনের লিপিগুলোকে একত্রিত করে বই আকারে তৈরি করা হয়। এর আগে ‘হিজাজি হস্তলিপিতে’ কোরআন লেখা হতো। আবিষ্কৃত খণ্ডাংশটিও ‘হিজাজি হস্তলিপি’র বলে উল্লেখ করেছেন টমাস। স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা তাদের শহরে মহান এই গ্রন্থের প্রাচীনতম পৃষ্ঠার সন্ধান পাওয়ার খবরে উল্লসিত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ‘আমি যখন পৃষ্ঠাগুলো দেখছিলাম তখন নিজেকে সামলে রাখতে পারিনি। আমার চোখে তখন আনন্দাশ্রু এবং আবেগ। আমি নিশ্চিত যে যুক্তরাজ্যের সব জায়গা থেকে লোকজন বার্মিংহামে আসবে এসব পৃষ্ঠা একনজর দেখার জন্য’— বলছিলেন বার্মিংহাম কেন্দ্রীয় মসজিদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আফজাল।
 

অধ্যাপক টমাস বলছেন, বার্মিংহামের লোকেরা এখন বলতে পারবে যে তাদের এমন সম্পদ রয়েছে তা আর কারো নেই।