খুলনার শেষ ৫টি খালও দখলদারদের কবলে

নগরীর ২২টি খালের মধ্যে ১৭টিরই অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে। বাকী যে ৫টি খাল জীবিত, সেগুলোও দখলদারদের কবলে। দখলদাররা এসব খালের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছে। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কিছুদিন পরই ফের তারা সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নগরীর স্বাভাবিক পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা। পানি বের হতে না পারায় বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

 
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, গোড়া খালের (লবণচরা খাল) দৈর্ঘ্য প্রায় দু’ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪০-৫০ ফুট। খালের দু’পাশের অধিকাংশ জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ৪৫ ব্যক্তি খালের জমিতে পাকা, কাঁচা, আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ১৯৯০ সালে লবণচরা এলাকার জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মালেক খালটির ইজারা নেন। তার মৃত্যর পর খালটির দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে প্লট তৈরি করে মানুষের কাছে বিক্রি করেছেন। ১৯৯৯ সালে কেসিসি অবৈধভাবে খালটির লবণচরা এলাকায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ও নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ করে।
 
এদিকে, মান্দার খাল নগরীর বানরগাতি আল-আমিন মহল্লা দিয়ে ঢুকে শ্মশান ঘাটের পাশ দিয়ে ময়ূর নদীতে মিশেছে। এর দৈর্ঘ্য দু’ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫০-৬০ ফুট। এর প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। মান্দার খালের বিশাল অংশ দখলে নিয়েছেন ১৩ জন। দখলদারদের বিরুদ্ধে কেসিসি উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে। কিন্তু তারা কেসিসির বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
 
অপরদিকে, চার কিলোমিটার দীর্ঘ গল্লামারী নর্থ ব্যাংক খালটি নগরীর ফারাজীপাড়া ও ময়লাপোতা মোড় থেকে গল্লামারী সেতুর পাশে ময়ূর নদীতে মিশেছে। এর প্রস্থ ২০-২৫ ফুট। দীর্ঘদিন খালের দু’ পাশ দখল হয়ে প্রস্থ ৫-১০ ফুটে নেমে এসেছে। এ খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় বৃষ্টি হলে নগরীর বানরগাতি, পশ্চিম বানিয়াখামার, বসুপাড়া, ইকবাল নগর, সোলায়মান নগর ও ফারাজীপাড়া এলাকার পানি নামতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
 
একইভাবে হরিণটানা নারকেলবাড়িয়া খালটি নগরীর হরিণটানা এলাকা দিয়ে নিরালা দিয়ে ময়ূর নদীতে মিশেছে। এই খালের দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬০ ফুট। এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন।
 
অপরদিকে, খুলনা শিপইয়ার্ডের উত্তর পাশ দিয়ে রূপসা নদী দিয়ে বের হয়ে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম টুটপাড়া ছড়িছড়া খালের সঙ্গে মিশেছে মতিয়াখালী খাল। এ খালের জায়গা দখল করে পশ্চিম টুটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। এর বিভিন্ন অংশে বাঁধ বা পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া খালের ওপর কেসিসি রাস্তাও নির্মাণ করেছে। খালের উভয় পাশের বাসিন্দারা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ খালটির দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার ও প্রস্থ ৫০-৬০ ফুট। তবে দখলের কারণে এখন খালটির বিভিন্ন স্থান সরু নালায় পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখন খালের জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন।
 
এসব খাল দখলে থাকার সত্যতা স্বীকার করে কেসিসির এস্টেট অফিসার নূরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে খালগুলো দখল করে রেখেছে। তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য তালিকা তৈরি করে দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।
 
 
খুলনার শেষ ৫টি খালও দখলদারদের কবলে
এনামুল হক, খুলনা অফিস
নগরীর ২২টি খালের মধ্যে ১৭টিরই অস্তিত্ব লোপ পেয়েছে। বাকী যে ৫টি খাল জীবিত, সেগুলোও দখলদারদের কবলে। দখলদাররা এসব খালের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছে। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কিছুদিন পরই ফের তারা সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নগরীর স্বাভাবিক পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা। পানি বের হতে না পারায় বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
 
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, গোড়া খালের (লবণচরা খাল) দৈর্ঘ্য প্রায় দু’ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪০-৫০ ফুট। খালের দু’পাশের অধিকাংশ জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ৪৫ ব্যক্তি খালের জমিতে পাকা, কাঁচা, আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ১৯৯০ সালে লবণচরা এলাকার জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মালেক খালটির ইজারা নেন। তার মৃত্যর পর খালটির দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে প্লট তৈরি করে মানুষের কাছে বিক্রি করেছেন। ১৯৯৯ সালে কেসিসি অবৈধভাবে খালটির লবণচরা এলাকায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ও নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ করে।
 
এদিকে, মান্দার খাল নগরীর বানরগাতি আল-আমিন মহল্লা দিয়ে ঢুকে শ্মশান ঘাটের পাশ দিয়ে ময়ূর নদীতে মিশেছে। এর দৈর্ঘ্য দু’ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫০-৬০ ফুট। এর প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। মান্দার খালের বিশাল অংশ দখলে নিয়েছেন ১৩ জন। দখলদারদের বিরুদ্ধে কেসিসি উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে। কিন্তু তারা কেসিসির বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
 
অপরদিকে, চার কিলোমিটার দীর্ঘ গল্লামারী নর্থ ব্যাংক খালটি নগরীর ফারাজীপাড়া ও ময়লাপোতা মোড় থেকে গল্লামারী সেতুর পাশে ময়ূর নদীতে মিশেছে। এর প্রস্থ ২০-২৫ ফুট। দীর্ঘদিন খালের দু’ পাশ দখল হয়ে প্রস্থ ৫-১০ ফুটে নেমে এসেছে। এ খালে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় বৃষ্টি হলে নগরীর বানরগাতি, পশ্চিম বানিয়াখামার, বসুপাড়া, ইকবাল নগর, সোলায়মান নগর ও ফারাজীপাড়া এলাকার পানি নামতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
 
একইভাবে হরিণটানা নারকেলবাড়িয়া খালটি নগরীর হরিণটানা এলাকা দিয়ে নিরালা দিয়ে ময়ূর নদীতে মিশেছে। এই খালের দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬০ ফুট। এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন।
 
অপরদিকে, খুলনা শিপইয়ার্ডের উত্তর পাশ দিয়ে রূপসা নদী দিয়ে বের হয়ে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম টুটপাড়া ছড়িছড়া খালের সঙ্গে মিশেছে মতিয়াখালী খাল। এ খালের জায়গা দখল করে পশ্চিম টুটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। এর বিভিন্ন অংশে বাঁধ বা পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া খালের ওপর কেসিসি রাস্তাও নির্মাণ করেছে। খালের উভয় পাশের বাসিন্দারা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ খালটির দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার ও প্রস্থ ৫০-৬০ ফুট। তবে দখলের কারণে এখন খালটির বিভিন্ন স্থান সরু নালায় পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখন খালের জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন।
 

এসব খাল দখলে থাকার সত্যতা স্বীকার করে কেসিসির এস্টেট অফিসার নূরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে খালগুলো দখল করে রেখেছে। তবে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য তালিকা তৈরি করে দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।