কাজ শেষ না করেই সব টাকা উত্তোলন!

নাটোরে কাজ শেষ না করেই ১৭টি প্রকল্পের সব টাকা উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও ঠিকাদারের পাওনা বিলের সব টাকাই পরিশোধ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলায়।

 
উপজেলা এলজিইডি অফিস ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এডিপি’র ১৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের ১১টি রাস্তা এইচবিবি (হেরিংবোন ব্রিক) করণ, স্যানিটেশন সামগ্রী বিতরণ, হাটের টিনসেড ঘর নির্মাণ, সিঁড়ি নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন ও খেলার সামগ্রী বিতরণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করার কথা ছিল। তবে এর মধ্যে কোন কোন গ্রামে ৫০ হাজার টাকার স্যানিটেশন সামগ্রী এবং কোন কোন ক্লাব প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের কাছ থেকে সঠিক কোন উত্তরও পাওয়া যায়নি।
 
এদিকে এক লাখ টাকা ব্যয়ে সোনাপুর বাজারে টিনশেড ঘর নির্মাণ, ৩০ হাজার টাকায় দয়ারামপুর ইউনিয়নের কাদিরাবাদ কাজীপাড়া আহমদিয়া আলিম মাদরাসার সিঁড়ি নির্মাণ ও ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে স্যাপার এ্যানজেলিক মেলেনিয়াম স্কুল এর অভিভাবকদের জন্য টিনশেড নির্মাণের কথা থাকলেও এখনো সে সব কাজ শুরুই করা হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে এইচবিবি করণের কাজটি এক নম্বর ইট   দিয়ে করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে দুই আর তিন নম্বর ইট দিয়ে। ঠিকাদাররা রাস্তায় তড়িঘড়ি করে কোনভাবে নিম্নমানের ইট বিছিয়ে ঠিকঠাক মতো সে রাস্তায় বালু না দিয়েই কাজ শেষ করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
 
উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিলগোলাপ হাটী গ্রামের মনোতোষ, আহসান হাবিব ও নবীউল জানান, ঠিকাদাররা অনেক লোকজন নিয়ে এসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খুব খারাপ মানের ইট দিয়ে এই সামান্য কাজ করে চলে যায়। কিছু জায়গায় এখনো শুধু রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। আবার যতটুকু ইট দেয়া হয়েছে তাও ঠিকভাবে বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়নি। আর এ সময় স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদাররা তাদের কথায় কান দেননি।
 
এদিকে উপজেলার কসবা মালঞ্চির একটি রাস্তা এইচবিবি করণের কাজ করার কথা থাকলেও সেই রাস্তাতে কোন কাজই হয়নি। মোট ১০টি নলকূপের জন্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে অনেক কমদামের নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। পাকা ইউনিয়নের বেগুনিয়া কবরস্থানে এটি নলকূপ বসানোর পর থেকেই তাতে পানি উঠছে না। কবরস্থান এলাকার ফজলে ফারুক, আলাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সেন্টু বলেন, তাদের সামনে নেটসহ ৪টি পাইপ দিয়ে ৯০ ফুট নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ করা হয়েছে। এতো কম গভীরতায় এখানে পানি উঠে না বিষয়টি বলার পরেও ঠিকাদারের লোকজন দু’টি পাইপ ফেরত নিয়ে চলে গেছেন।
 
অভিযোগ উঠেছে, টেন্ডারকৃত ঠিকাদারগণ কাজ শেষ না করে শতকরা ২৫ ভাগ লাভে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার কাছে কাজ বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সব টাকা উত্তোলন করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাগাতিপাড়ার উপজেলা প্রকৌশলী মো. মজাহার আলী বলেন, এডিপির বরাদ্দের টাকা অর্থবছরের শেষে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসায় স্বল্প সময়ে পাঁচটি গ্রুপে ১৭টি কাজের টেন্ডার আহ্বানের পর ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারকে বিল দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে সোনাপুর হাটের টিনশেড নির্মাণ ছাড়া ১৭টি কাজের প্রায় সব কাজই এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি সরাসরি এসব কাজ নিজে দেখেননি, তার সহকারী প্রকৌশলী দেখভাল করছেন বলে উল্লেখ করেন। এসব কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বৃষ্টিকেও দায়ী করেন, তবে কাজের মান মোটেও খারাপ হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।