ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিকে ইসরায়েল ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে সমালোচনা করে স্থানীয় সময় বুধবার নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মিছিল-সমাবেশ করেছে কয়েক হাজার মানুষ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতি এই চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করারও দাবি জানিয়েছে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পর গত ১৪ জুলাই ইরান এবং ছয় বিশ্বশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি ওই চুক্তিতে একমত হয়। খবর আল জাজিরার।
রিপাবলিকান রাজনীতিকসহ সমাবেশের বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতি চুক্তিটি ছুড়ে ফেলার আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ওবামা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে চুক্তিটি নিয়ে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনা শুরু করেছেন। আগামী ৬০ দিন এটা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
সমাবেশে ডানপন্থী ইহুদি ও ধর্মপ্রচারক খ্রিস্টান গ্রুপগুলোর সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং চুক্তির নিন্দা জানিয়ে লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছিল।
‘স্টপ ইরান র্যালি’র এক সংগঠক দাবি করেন—টাইমস স্কোয়ারের ওই মিছিল-সমাবেশে ১০ হাজার মানুষের জমায়েত ছিল। তবে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিউ ইয়র্কের সাবেক রিপাবলিকান গভর্নর জর্জ পাটাকি সমাবেশে বলেন, ‘ইরানকে না বলতে, চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করতে আমেরিকান হিসেবে আমরা এখানে এক স্বরে বলব।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি আতঙ্কজনক চুক্তি, এটি অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে। কংগ্রেস অবশ্যই তার কাজ করবে এবং আমেরিকান জনগণের পাশে দাঁড়াবে, আমাদের নিরাপত্তার পাশে দাঁড়াবে এবং ইরানের এই চুক্তিকে না বলবে।’
মিছিল-সমাবেশ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। চুক্তিটির ব্যাপারে এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক এক মতামত জরিপে দেখা গেছে—চুক্তি সম্পর্কে শোনা ৭৯ ভাগ আমেরিকানের মধ্যে ৪৮ ভাগ বিষয়টি পছন্দ করছে না।