জেলার ফতুল্লা উপজেলার একটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবারই বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মাহমুদপুর, রগুনাথপুর, নিতাইপুর ও ভুইগড় এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকাগুলোতে কোন কলকারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে না। অনেক পরিবারই নিরাপদ আশ্রয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
কুতুবপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, বাড়ি ঘর ছেড়ে প্রতিদিনই কোন না কোন পরিবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প হাউজে তাগিদ দেওয়া হচ্ছেIIMG0
ডিএনডি সূত্রে জানা গেছে, ডিএনডি থেকে সুষ্ঠুভাবে সেচ কার্য পরিচালনা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য নয়টি সেচ খাল, নয়টি ডিটিও খাল, ২১০টি আউট লেক খাল, ৮৫টি চকবন্দী খাল সহকারে ১০টি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। এ ছাড়াও এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল রয়েছে। এর মধ্যে চ্যানেল-১ খালের র্দৈঘ্য সাত দশমিক ৯০ কিলোমিটার, চ্যানেল-২ এর দৈর্ঘ্য পাঁচ দশমিক ৮০ কিলোমিটার, পাগলা খাল তিন কিলোমিটার, জালকুড়ি খাল দুই দশমিক ১০ কিলোমিটার, শ্যামপুর খাল দুই দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ফতুল্লা খাল এক দশমিক ৮০ কিলোমিটার ও সেকেন্ডারি চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। এ সকল খালের অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে।IMG01
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ পাম্প হাউজের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার জানান, ১২৮ কিউসেক পানি নিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি পাম্প বর্তমানে সচল রয়েছে। কিন্তু তারপরও এ সচল পাম্পগুলো সর্বক্ষণ চালানো যাচ্ছে না। কেননা চারটি পাম্পের আটটি পোর্ট দিয়ে পানি আসার সময় নেটের সামনে ডিএনডিবাসীর ফেলানো পলিথিন ও বর্জ্য এসে আটকে থাকে। এতে পানি মেশিনের কাছে আসতে পারে না। ফলে পাম্প অটোমেটিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পাম্পের সামনে লাগানো নেটের পলিথিন ও বর্জ্য পরিষ্কার করতে মাঝেমধ্যে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, চারটি বড় পাম্পের পাশাপাশি পাঁচ কিউসেক পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা সম্পন্ন ছোট আরো ২২ টি পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে।