কক্সবাজারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের এক কনষ্টেবল নিহত হয়েছেন। নিহত পুলিশ সদস্যের নাম পারভেজ হোসাইন (২৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের সার্কিট হাউসের কাছে গোলচক্কর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।
পারভেজ কুমিল্লা জেলা সদরের গৌরীসেন এলাকার মোহাম্মদ বশির আহম্মেদের ছেলে। তার লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আটকরা হলেন: কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া এলাকার আবুল কালামের পুত্র আবু তাহের (২৮) ও শাহ আলমের পুত্র আবদুল মালেক (২৪)।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকালে বাহাড়ছড়া গোলচক্কর মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন পর্যটক ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। একটি সিএনজি ট্যাক্সি যোগে আসা ৪/৫ জন ছিনতাইকারী পর্যটকদের মালামাল নিয়ে পালানোর সময় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা কনস্টেবল পারভেজকে ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সকাল ১০ টার দিকে পারভেজের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক নোবেল কুমার বড়ুয়ার বরাত দিয়ে বিডিনিউজ জানায়, নিহত পুলিশ সদস্যের বুকে ও পেটে আটটি জখমের চিহ্ন রয়েছে। ফুসফুসে ছুরির আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এএসপি জহিরুল আরো জানান, ঘটনার সময় পারভেজ ধাওয়া করে একজন ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরে ফেললে পেছন থেকে আরেক ছিনতাইকারী তাকে এলোপাতাড়ি ছুরি মারে। এসময় অন্য পুলিশ সদস্যরা দুজনকে ধরতে পারলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য পারভেজের লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঈদের পর এখন লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার। অথচ এতো বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় সেখানে মাত্র দেড় শতাধিক ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।