বাগেরহাটে ছাত্রলীগকর্মী আরিফ হাসান ওরফে রাজু হত্যা মামলায় ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা দায়রা জজ মিজানুর রহমান খান এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- আঃ রাজ্জাক শেখ, হোসেন শেখ, লাভলু শেখ, নজরুল শেখ, আঃ সত্তার শেখ, শেখ ফারুক, শওকত শেখ, নুরো শেখ, কামরুল শেখ, জিয়ারুল শেখ, আঃ কাদের শেখ ও শেখ টিপু সুলতান। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
মামলার বিবরণ ও বাগেরহাট আদালতের পিপি মোহাম্মদ আলী জানান, নিহত ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হাসান ওরফে রাজু বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের শেখ নুর ইসলামের ছেলে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজুকে আসামিরা হত্যা করে। ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিকালে রাজু সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকার লুত্ফর ফকিরের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামিরা তার গতিরোধ করে। এসময় রাজু দৌড় দিলে তাকে ধাওয়া করে ধরে পার্শ্ববর্তী সুপারি বাগানে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
রাজুর বাবা শেখ নুর ইসলাম বাদী হয়ে ঐ দিনই বাগেরহাট সদর থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তত্কালীন বাগেরহাট সদর থানার এসআই মোঃ হাফিজুর রহমান ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ১৫ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করে।