বৈশ্বিক মানবপাচার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এবারো দ্বিতীয় স্তরেই (টায়ার-২) রাখা হয়েছে বাংলাদেশকে। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থ বছরের মতো একই স্তরে থাকল বাংলাদেশ। এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘ন্যূনতম মানদণ্ড’ রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার কথা। স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ওয়াশিংটনে ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন (টিআইপি)’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশসহ মোট ১৮৮টি দেশের মানব পাচার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে এবারের প্রতিবেদনে। ব্যর্থতার কথা বলা হলেও প্রতিবেদনে মানব পাচার ঠেকাতে সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশকালে জন কেরি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মতৃপ্ত হওয়ার কিছু নেই। অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা যেতে পারে। কিন্তু কখনোই একজন মানুষকে কেনাবেচা করা উচিত নয়।
প্রতিবছর দেশগুলোকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো: স্তর-১ (টায়ার-১), স্তর-২ (টায়ার-২), স্তর-২ পর্যবেক্ষণ তালিকা (টায়ার-২ ওয়াচলিস্ট) এবং স্তর-৩ (টায়ার-৩)।
যেসব দেশ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই দেশগুলো টায়ার-১ এ রাখা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ২০০৮ সালে টায়ার-২-এ থাকলেও ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে টায়ার-২ ওয়াচলিস্টে ছিল। তবে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ টায়ার-২-এ আছে। এ বছরও সেই অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন করলেও তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এজন্য বিধিমালা করে আইনের পুরোপুরি বাস্তবায়ন, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, পাচারের শিকার লোকজনকে সুরক্ষাসহ কয়েকটি বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে সাগর পথে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রোঙ্গিহা পাচার নিয়ে চলা আলোচনার মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী মালয়েশিয়া এ বছর একধাপ এগোলেও থাইল্যান্ডের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। মালয়েশিয়া টায়ার-২ ওয়াচলিস্টে এবং থাইল্যান্ড টায়ার-৩-এ আছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের এই প্রতিবেদনকে মানব পাচার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।