রায় যুগান্তকারী ও প্রত্যাশিত: বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া

 
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় আপিলে বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।
 
বুধবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সদস্যসচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক হারুন হাবিব বলেন, এ রায় যুগান্তকারী। এতেনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তার হাতে নির্যাতিতরা দীর্ঘদিন পর হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছে।
 
প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাকা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু সমপ্রদায়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন। আজকে এই অপরাধের বিচারের মাধ্যমে প্রমাণ হলো, এটি একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র।
 
প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত বলেন, সাকা চৌধুরী চট্রগ্রাম অঞ্চলের ভয়ংকর যুদ্ধাপরাধী তা সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের চূড়ান্ত রায়েও প্রমাণিত হলো। এ রায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
 
মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ বলেন, এ রায়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশবাসী খুশি হবে। সালাউদ্দিন কাদের শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধই করেননি, তিনি বিভিন্ন সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের জাতীয় সংগীত, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ নানা বিষয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কটাক্ষ ও আচরণ করেছেন। এ রায় প্রত্যাশিত।
 
সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, দাম্ভিকতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং সমাজের উঁচু জায়গায় অবস্থান করলেও কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়-তা আজকের মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো।
 
মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট ও গর্বিত। ১৯৭১ সালে সাকা চৌধুরী যে ধরনের হত্যা- গণহত্যা চালিয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে তার কোনো প্রতিকার হয় না। তবে রায়ে নিশ্চয়ই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে এবং দেশের মুক্তিযোদ্ধারা খুশি হবে।
 
২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের ২৮ দিনের মাথায় আপিল করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। চলতি বছর ১৬ জুন থেকে মোট ১৩ দিন দুই পক্ষের যুক্তি শোনে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ। শুনানি শেষে আদালত ২৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করে। আজ সালাউদ্দিন কাদেরকে একটি অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে আটটি অভিযোগে সাজা বহাল রেখে রায় দেয়।-বাসস।