রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ আরিফুল
ইসলাম। তিনি ৩৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তার গল্প লিখেছেন— এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করতেন
ওয়েটিং থেকে দুটো বিভাগের মধ্য থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিন্তু পরেরবারও চান্স হয়নি। তাই ্ইয়ার ড্রপ খেতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়ালেখার পাশাপাশি প্রচুর ভ্রমণ করতেন। সাহিত্যের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল । শরত্চন্দ্র, সমরেশ, হুমায়ূন ও জাফর ইকবালের বইগুলো ছিল প্রিয় পাঠ্য। শার্লক হোমস ও তিন গোয়েন্দাও গোগ্রাসে গিলতেন। জন্মদিনে একবার বন্ধুদের কাছে চেয়ে চেয়ে একখানা হুমায়ূন আহমেদ সমগ্র নিয়েছিলেন। চতুর্থ বর্ষে উঠে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।
প্রস্তুতি যেভাবে নেওয়া হয়েছিল
বন্ধুরা সবাই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে গিয়ে বিসিএস এর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলো। কিন্তু আরিফ রবীন্দ্রসঙ্গীত এর মত ‘একলা চলো রে’ নীতিতে বাসায় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেন। বিসিএস প্রস্তুতির অলিগলি চেনা শুরু করলেন। দিনরাত বাসায় বসে পড়াশোনা করতেন। সময় নিয়ে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ছিল। এছাড়াও আরিফের গাইড বইয়ের বাহিরেও অন্তর্জালের দুনিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগোল ও পত্রিকার বিভিন্ন লিংকে ঢু মেরে কিছু জানার আগ্রহ ছিল সব সময় যা বিসিএস পরীক্ষাতে সাহায্য করেছিল। ৩৫তম বিসিএসের ননক্যাডারে ১ম শ্রেণির সরকারি চাকরির জন্য জীবনে প্রথম সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ‘পরিসংখ্যান কর্মকর্তা’ পদে। এদিকে পূবালী ব্যাংকে অফিসার পদেও চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু ‘পরিসংখ্যান কর্মকর্তা’ পদে যোগদানের কারণে আর পূবালী ব্যাংকে যোগদান করেননি।
স্বপ্ন যাদের বিসিএস
আরিফুল ইসলামের পরামর্শ হলো- জ্ঞানের গভীরতা বাড়াতে হবে। বাজারে প্রচলিত গাইড বই এর পাশাপাশি নিয়মিত দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন লেখকের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। মাথায় যখনি কোনো নতুন প্রশ্ন, শব্দ বা দ্বিধা আসবে সাথে সাথে তা গুগোল করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গুগোল হচ্ছে সর্বোত্তম শিক্ষক। নিয়মিত কমপক্ষে একটি পেপার পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। সেই সাথে অনলাইন পোর্টালগুলোয় নতুন কিছু পেলেই তা ঘাটাঘাটি করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। বিভিন্ন ফোরামে বা বন্ধু মহলে কথা বলার অভ্যাস করা উচিত। সেই সাথে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে লেখালেখির মাধ্যমে লেখার হাত চালু রাখতে হবে। সর্বোপরি একটা নিয়মমাফিক জীবনযাপন করা উচিত। মানুষ হিসেবে নিজের জ্ঞানের গভীরতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করলেই সফলতা আসবে।