গোয়া ও গৌহাটির ওয়াটার প্রজেক্টের কাজ পাওয়ার জন্য ভারতের একজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিল একটি মার্কিন সংস্থা। এমন অভিযোগ আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ওই ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন গোয়ার তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী দিগম্বর কামাত স্বয়ং! অভিযোগ উঠেছে, কেবল তার সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা নয়, তিনি নিজেও বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়েছিলেন। এই ঘুষের অঙ্ক এক কোটি রুপি বলে জানা গেছে।
ঘুষ কান্ডে সাড়া জাগানো এই মার্কিন কোম্পানির নাম লুইস বার্গার। মঙ্গলবার গোয়ার একটি আদালতে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাক্ষ্য দেন। তারা কামাতকেও ঘুষ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে গতকাল বুধবার দিগম্বর কামাতের পক্ষ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
২০০৯-১০ সালে জাপান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতায় গোয়া ও গৌহাটিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য পাঁচ বছরের একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ভারত সরকার। এই চুক্তি পাওয়ার জন্য বেআইনি লেনদেন চালায় লুইস বার্গার। তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের অন্তত ৬ কোটি রুপি ঘুষ দেয় ‘কমিটমেন্ট ফি’, ‘মার্কেটিং ফি’, ইত্যাদি নানা খাতের নামে।
জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কামাত দু’বার ঘুষ নিয়েছিলেন। দুই দফায় মোট ১ কোটি রুপি নেন তিনি। মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে গোয়ার অপরাধ বিভাগ। এছাড়া রিপোর্ট জমা পড়েছে গোয়ার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত পারসেকরের কাছেও। অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, কামাতের তত্কালীন সরকারের পূর্তমন্ত্রী চার্চিল আলেমো ৭০ লাখ রুপি ঘুষ নিয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও আরো এক মন্ত্রী এই ঘুষের ভাগিদার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘুষ কেলেঙ্কারির কথা কিছুদিন আগেই ফাঁস হয়।
গত সোমবার এই ঘটনায় প্রজেক্ট ডিরেক্টর এ ওয়াসান্ডারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এই কেলেঙ্কারি ক্রাইম ব্রাঞ্চকে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে, যাতে সিবিআই-এর হাতে তথ্য তুলে দেওয়া যায়।
মার্কিন কোম্পানির ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি এতদিন ততটা জানাজানি হয়নি। গত রবিবার এই কেলেঙ্কারির ঘটনা সবার সামনে এনে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পরিকর। এরপরেই তোলপাড় শুরু হয়। তাকে সমর্থন জানিয়েছেন গোয়ার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত। তার পরই কংগ্রেসের তত্কালীন রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন এই দুই বিজেপি নেতা। লক্ষ্মীকান্ত গতকাল বলেন, ‘যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক বিষয়, তাই গোয়া পুলিশ এর তদন্ত করতে পারবে না। তাই সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লেখা হয়েছে।’
এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেস। লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরকারকে কাঁপিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিরোধী দল। কিন্তু উল্টো তারাই কঠোর চাপে পড়ে গেল। বিষয়টি অস্বীকার করে রেহাই পাওয়ারও উপায় নেই। কারণ গত শনিবার মার্কিন ওই বহুজাতিক সংস্থার বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে সেদেশের আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে মার্কিন আইন বিভাগ। বিজেপি বলছে, কংগ্রেস যদি কামাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তবে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে জানতে হবে, কাকে বা কাদের সাথে অবৈধ লেনদেনের কারণে লুইস বার্গার কোম্পানির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাহলেই সব সত্য সামনে আসবে।