প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সিলেট। সুন্দরের লীলাভূমি সিলেট দেখতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা ঘটে এখানে। সিলেটের প্রধান আকর্ষণ প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও মাধবকুন্ড। এই দুই পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারাবছর মুখিয়ে থাকেন পর্যটকরা। সুযোগ পেলেই তারা ছুটে আসেন প্রকৃতির কোলে। জাফলং-এ পাহাড়ি নদী পিয়াইনের স্বচ্ছ শীতল পানি শান্তির পরশ বইয়ে দেয়। মেঘালয়ের পাদদেশে জাফলং-এর নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মাধবকুন্ডের ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে অবিরত ঝর্ণা দর্শনার্থীদের পুলকিত করে। তবে গত ২০ বছরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এখানে বেড়াতে আসা ৬২ জন পর্যটক। দুর্ঘটনাগুলো কি নিছক দুর্ঘটনা! নাকি পর্যটকদের অসতর্কতা, নাকি কর্তৃপক্ষের অবহেলা এই প্রশ্নগুলোই দিন দিন জোরালো হচ্ছে। শুধু এ দু’টি পর্যটন স্পটই যে বিপজ্জনক তাই নয়। হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের নয়নাভিরাম বরাইক্কা টিলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যাদুকাটা নদীও বর্ষায় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের টানে অনেক সময় পর্যটকদের নৌকা ডুবে যায়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে এসব বিপজ্জনক জায়গায় শুধু সাইনবোর্ড টানিয়েই কি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ। সচেতন মহলের মতে, যেসব স্থান বিপজ্জনক সেসব স্থানে সাঁতার কাটা বা পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা বন্ধ করতে হবে যে কোন মূল্যে। সিলেট সনাকের সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধূরী বলেন, এসব স্থানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ পর্যটন এমন একটি শিল্প যেখান থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।