সিলেটে ২০ বছরে ৬২ পর্যটকের মৃত্যু

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সিলেট। সুন্দরের লীলাভূমি সিলেট দেখতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা ঘটে এখানে। সিলেটের প্রধান আকর্ষণ প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও মাধবকুন্ড। এই দুই পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারাবছর মুখিয়ে থাকেন পর্যটকরা। সুযোগ পেলেই তারা ছুটে আসেন প্রকৃতির কোলে। জাফলং-এ পাহাড়ি নদী পিয়াইনের স্বচ্ছ শীতল পানি শান্তির পরশ বইয়ে দেয়।  মেঘালয়ের পাদদেশে জাফলং-এর নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মাধবকুন্ডের ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে অবিরত ঝর্ণা দর্শনার্থীদের পুলকিত করে। তবে গত ২০ বছরে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এখানে বেড়াতে আসা ৬২ জন পর্যটক। দুর্ঘটনাগুলো কি নিছক দুর্ঘটনা! নাকি পর্যটকদের অসতর্কতা, নাকি কর্তৃপক্ষের অবহেলা এই প্রশ্নগুলোই দিন দিন জোরালো হচ্ছে। শুধু এ দু’টি পর্যটন স্পটই যে বিপজ্জনক তাই নয়। হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের নয়নাভিরাম বরাইক্কা টিলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যাদুকাটা নদীও বর্ষায় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের টানে অনেক সময় পর্যটকদের নৌকা ডুবে যায়।     

 
গত দুই দশকে জাফলং ও মাধবকুন্ডে ৬২ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জাফলং-এ নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে ২৮ জন ও মাধবকুন্ডের চূড়া থেকে নিচে পড়ে গিয়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। গত ২২ জুলাই ঢাকা থেকে আসা ১২ জনের একটি পর্যটকদলের মধ্যে দুই কলেজ ছাত্রের লাশ চারদিন পর জাফলং-এর পিয়াইন নদী থেকে জেলেরা উদ্ধার করে।
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাফলং-এর পিয়াইন নদীর তলদেশে শত শত গর্ত। বৈধ-অবৈধ পন্থায় পাথর তোলার ফলে স্থানটি মৃত্যুফাঁদে  পরিণত হয়েছে। মনের আনন্দে নদীতে গোসল করতে নেমে পর্যটকরা স্রোতের টানে ভাসতে ভাসতে ঐসব গহ্বরে গিয়ে যখন পড়েন সেখান থেকে তাদের উঠে আসা আর সম্ভব হয় না। এমকি লাশও খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই লাশ ভেসে উঠে কয়েকদিন পর। একইভাবে মাধবকুন্ডের চূড়ায় উঠে নিচের ঢালু দেখতে উঁকি দিতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে যায় অনেকে। যদিও সতর্কবাণী দিয়ে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। কিন্তু আনন্দ উচ্ছ্বাসে তরুণ দল এসব সাইনবোর্ড পড়ারও সময় পায় না। তারা হৈ-হৈ করে চূড়ায় ওঠে।
 
প্রকৃতির সৌন্দর্যের অবগাহনে এসে প্রতিবছর জাফলং-এর পিয়াইন নদীতে ও মাধবকুন্ডের উঁচু চূড়া থেকে ছিটকে পড়ে কুন্ডের গহীন গর্তে ডুবে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দুর্ঘটনার পরে কর্তৃপক্ষ সতর্কতার জন্য কিছুদিন মাইকিং করে। সাইনবোর্ড টানানো হয়। কয়েকদিন গেলে পরিস্থিতি আগের মতোই হয়ে যায়।
 

এখন প্রশ্ন উঠেছে এসব বিপজ্জনক জায়গায় শুধু সাইনবোর্ড টানিয়েই কি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ। সচেতন মহলের মতে, যেসব স্থান বিপজ্জনক সেসব স্থানে সাঁতার কাটা বা পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা বন্ধ করতে হবে যে কোন মূল্যে। সিলেট সনাকের সভাপতি ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধূরী বলেন, এসব স্থানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ পর্যটন এমন একটি শিল্প যেখান থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।