জলমগ্ন হচ্ছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকার আশপাশে। বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে রাজধানীতেও। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল। শহর সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ নদ-নদী ও টঙ্গী খালের পানিও বাড়ছে।

 
রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিমোহনী, দাসেরকান্দি, ফকিরখালী, বেরাইদসহ আশপাশের এলাকা এবং বালু-শীতলক্ষ্যার পশ্চিম পাড়ে ডেমরার আমুলিয়া, মেন্দিপুর, কায়েতপাড়া, নাসিরাবাদ, শেখের জায়গা, নাগড়াপাড়া ও পাইটির নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে। বৃষ্টি ও বন্যার পানি বেড়ে এসব এলাকা যে কোনো সময় প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজধানীর আশপাশের বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মূল উত্স পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী। আগামী ৭২ ঘণ্টা পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে। এছাড়া বৃষ্টি হলে পানি বেড়ে ঢাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
 
জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীর উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্বাংশে বাঁধ এলাকা দনিয়া, কাজলা, শনিরআখড়া, বাকেরপাট, রায়েরবাগ, মিরাজনগর, মোহাম্মদবাগ, মাতুয়াইল এলাকার অলিগলি পানিতে নিমজ্জিত। ভারী বর্ষণে এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসা-বাড়িতে পানি উঠেছে।  মাণ্ডা, নন্দীপাড়া সেতুর পূর্ব প্রান্ত ও নতুনবাজার এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। তুরাগ থানার হরিরামপুর ইউনিয়নের বাউনিয়া, উলুদাহ এলাকার অনেক অংশ জলমগ্ন। রামপুরা থানার মেরাদিয়া, খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী, মাদারটেক ও শেখেরটেক এলাকারও একই অবস্থা। দক্ষিণ-পূর্বের শীতলক্ষ্যা নদীতেও পানি অনেক বেড়েছে। নদীপাড়ে পায়ে চলার পথ ডুবে গেছে। সাইনবোর্ড, ভূঁইগড় এলাকা ছাড়াও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের ভিতরে বৃষ্টির পানি আটকে আছে। এসব ঘনবসতি আবাসিক এলাকার লোকজন পানিবন্দী রয়েছেন।  রাজধানীর নিম্নাঞ্চল কাজীপাড়া ও দুয়ারীপাড়াও প্লাবিত হয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থির এবং যমুনার পানি বাড়লেও রাজধানীতে বন্যার পানি প্রবেশের আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টি হলে পানি বেড়ে এসব এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
 
শেখের জায়গা লিংক রোডের আশপাশে বসবাসকারীরা বাড়ি থেকে রাস্তা পর্যন্ত বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর তাদের এ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শেখের জায়গা লিংক রোডের পাশের দোকানি আবুল হোসেন বলেন, বছরের ছয় মাস এ এলাকা পানিতে ডুবে থাকে। বর্ষাকাল এলেই দুর্ভোগ দেখা দেয়। বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে এই এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করে। বন্যার পানি এলে সেটা পূর্ণতা পায়। শীতের আগে এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পায় না। এলাকার আরেক বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, এখানে জলাবদ্ধতার কারণে কোনো ফসল ফলানো যায় না। বন্যার পর পর একটি বা দুটি রবিশস্য হয়তো চাষ করা যায় কিন্তু আউশ ও আমন ধান লাগালেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। কেননা বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে পাকা ধানের ক্ষেতে পানি ঢুকে সব ফসল নষ্ট হয়।