বরিশালে এক শিশু গৃহকর্মীর ওপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন

কয়দিন আগে সাবিনার কাজে একটু দেরি হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাসুম সিকদারের স্ত্রী শিউলী বেগম। রাগে অন্ধ হয়ে গরম খুনতি দিয়ে ছেঁকা দিয়ে ঝলসে দেন সাবিনার সারা পিঠ। শুধু তাই নয় কাঁটা চামচ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে খোঁচাতে থাকেন তিনি। এতে সাবিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।  এভাবে মধ্যযুগীয় নির্যাতন করে শিশুটিকে টানা চারদিন ঘরে আটকে রাখেন ওই গৃহকর্ত্রী। এই সময়ে তার চিকিৎসা তো দূরে থাক, ন্যূনতম সহানুভূতিটুকুও জোটেনি। লোকমুখে মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে মা গেলেন মেয়েকে নিয়ে আসতে। শেষমেশ স্ট্যাম্পে সই করে মেয়েকে পেলেন মা। ভর্তি করালেন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

 
বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার গ্রামের বাদশা খলিফার ১১ বছর বয়সী মেয়ে সাবিনা আক্তার। এক বছর আগে গৃহকর্মীর কাজ নেয় নগরীর গাউছিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা মান্নান সিকদারের ছেলে মাসুম সিকদারের বাসায়। বিনা বেতনে ওই বাসায় রান্না, কাপড় কাচা, থালা বাসন ধোয়াসহ সব ধরনের কাজ করতে হতো তাকে।
 
সাবিনার মা রহিমা বেগম জানান, লোকমুখে মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বুধবার তিনি রূপাতলী গাউছিয়া সড়কে মাসুম সিকদারের বাসায় যান। গুরুতর অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে বুধবার রাতে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করান। সার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, সাবিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং খুনতি দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
 
সাবিনাকে উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালে তার খোঁজ খবর নেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সাথে গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় সভানেত্রী অ্যাডভোকেট মুনিরা বেগম।